Montu Zaman
2025-11-12, 11:06 AM
http://forex-bangla.com/customavatars/342995737.jpg
মার্কিন সরকারের শাটডাউন অবসানের সম্ভাবনা ও ওয়াল স্ট্রিটে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও এশিয়ার বাজারে গতকাল বেশির ভাগ সূচক ছিল নিম্নমুখী। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদরের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন এখানকার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে মার্কিন মুদ্রানীতি, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দোদুল্যমান মনোভাব আরো জোরালো হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক বাজার বরাবরই মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। বাজারসংশ্লিষ্টদে বিনিয়োগ মনোভাবে সামান্যতম দ্বিধা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শেয়ারবাজারে। এর বড় উদাহরণ হলো এশিয়ার শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি।
অনলাইনভিত্তিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুইসকোটের বিশ্লেষক ইপেক ওজকারদেস্কায়া বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মনোভাবই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী। কোনো খবরকে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে দেখেন, বাজার সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানায়। সাধারণ একটি ছবি, শব্দ বা ডাটা যেকোনো মুহূর্তে বাজারের মনোভাবকে পাল্টে দিতে পারে।’
প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে সম্প্রতি বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাজারের পরিস্থিতি বলছে, এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। এমনকি মার্কিন সিনেটে শাটডাউন স্থগিতের বিল পাস হওয়ার পরও এশিয়ার বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে আরো দুর্বল হয়েছে দেশটির মুদ্রা ইয়েন। দেশটিতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১৫৪ দশমিক ১৪ ইয়েন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ দশমিক ২৩ ইয়েনে। বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় জাপান সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় সম্প্রতি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। উল্টো দেশটিতে সরকারি ব্যয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে। দুটি বিষয়ই এখন ইয়েনের অবমূল্যায়নে ভূমিকা রাখছে।
চীনের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে গতকাল। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকমান প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক গত সপ্তাহের পতনের ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠেছে। গতকাল দশমিক ৮ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি নিয়ে শেষ হয়েছে সূচকটির লেনদেন। এশিয়া-প্যাসিফিকে অন্যান্য বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ ও তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক কমেছে যথাক্রমে দশমিক ২ ও দশমিক ৩ শতাংশ। আর ভারতের সেনসেক্স সূচক ছিল প্রায় অপরিবর্তিত।
এর আগে সোমবার ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারসূচকগুলোয় উত্থান দেখা যায়। এক্ষেত্রে চালকের আসনে ছিল বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহের শেয়ারদর পতনের বেশির ভাগই এরই মধ্যে পুনরুদ্ধার করেছে বাজার। এদিন তিন প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ও নাসডাক কম্পোজিট বেড়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দশমিক ৮ ও ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে এনভিডিয়া। সোমবার চিপ কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে এনভিডিয়াসহ প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর শেয়ারদরে হঠাৎ পতন দেখা দেয়। বর্তমানে ওয়াল স্ট্রিটে এআই উন্মাদনা চলছে উল্লেখ করে সমালোচকরা বলছেন, এসব কোম্পানি শেয়ারদর অতিদ্রুত ও অতিরিক্ত গতিতে বেড়েছে, যা ২০০০ সালের ডটকম বাবলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তবে মার্কিন স্বাস্থ্যবীমা খাতের কিছু কোম্পানির পতন বাজারের উত্থানকে সীমিত রেখেছে। কংগ্রেসে স্বাস্থ্যসেবা কর ছাড় বাড়ানো হবে কিনা, সে সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা খাতটিকে চাপে ফেলেছে। এ জটিলতাই মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের কারণ।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারদর কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। এদিন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন বাফেট। জানুয়ারিতে সিইও পদ ছাড়তে যাওয়া এ ধনকুবের জানান, আগামী কয়েক দশকে অন্যান্য অনেক কোম্পানি বার্কশায়ারের তুলনায় ভালো পারফর্ম করতে পারে। এর কারণ হলো বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বড় আয়তন।
মার্কিন শীর্ষস্থানীয় মাংস বিক্রেতা কোম্পানি টাইসন ফুডসের শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি মুনাফা করেছে তারা।
আর্থিক ডাটা পরিষেবাদাতা ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে তালিকাভুক্ত প্রতি পাঁচ কোম্পানির চারটির মুনাফা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়মিত বিষয় হলেও এবার কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ ছিল বেশি। কারণ এপ্রিল থেকে শেয়ারদরের ব্যাপক উত্থানকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে এসব কোম্পানির ভালো মুনাফা দরকার ছিল।
মার্কিন সরকারের শাটডাউন অবসানের সম্ভাবনা ও ওয়াল স্ট্রিটে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও এশিয়ার বাজারে গতকাল বেশির ভাগ সূচক ছিল নিম্নমুখী। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদরের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন এখানকার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে মার্কিন মুদ্রানীতি, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দোদুল্যমান মনোভাব আরো জোরালো হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক বাজার বরাবরই মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। বাজারসংশ্লিষ্টদে বিনিয়োগ মনোভাবে সামান্যতম দ্বিধা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে শেয়ারবাজারে। এর বড় উদাহরণ হলো এশিয়ার শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি।
অনলাইনভিত্তিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুইসকোটের বিশ্লেষক ইপেক ওজকারদেস্কায়া বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মনোভাবই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী। কোনো খবরকে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে দেখেন, বাজার সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানায়। সাধারণ একটি ছবি, শব্দ বা ডাটা যেকোনো মুহূর্তে বাজারের মনোভাবকে পাল্টে দিতে পারে।’
প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে সম্প্রতি বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাজারের পরিস্থিতি বলছে, এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। এমনকি মার্কিন সিনেটে শাটডাউন স্থগিতের বিল পাস হওয়ার পরও এশিয়ার বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক গতকাল দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে আরো দুর্বল হয়েছে দেশটির মুদ্রা ইয়েন। দেশটিতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১৫৪ দশমিক ১৪ ইয়েন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ দশমিক ২৩ ইয়েনে। বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় জাপান সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় সম্প্রতি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। উল্টো দেশটিতে সরকারি ব্যয়বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে। দুটি বিষয়ই এখন ইয়েনের অবমূল্যায়নে ভূমিকা রাখছে।
চীনের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে গতকাল। দেশটির মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকমান প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক গত সপ্তাহের পতনের ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠেছে। গতকাল দশমিক ৮ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি নিয়ে শেষ হয়েছে সূচকটির লেনদেন। এশিয়া-প্যাসিফিকে অন্যান্য বাজারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ ও তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক কমেছে যথাক্রমে দশমিক ২ ও দশমিক ৩ শতাংশ। আর ভারতের সেনসেক্স সূচক ছিল প্রায় অপরিবর্তিত।
এর আগে সোমবার ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারসূচকগুলোয় উত্থান দেখা যায়। এক্ষেত্রে চালকের আসনে ছিল বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহের শেয়ারদর পতনের বেশির ভাগই এরই মধ্যে পুনরুদ্ধার করেছে বাজার। এদিন তিন প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ও নাসডাক কম্পোজিট বেড়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দশমিক ৮ ও ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে এনভিডিয়া। সোমবার চিপ কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে এনভিডিয়াসহ প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর শেয়ারদরে হঠাৎ পতন দেখা দেয়। বর্তমানে ওয়াল স্ট্রিটে এআই উন্মাদনা চলছে উল্লেখ করে সমালোচকরা বলছেন, এসব কোম্পানি শেয়ারদর অতিদ্রুত ও অতিরিক্ত গতিতে বেড়েছে, যা ২০০০ সালের ডটকম বাবলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তবে মার্কিন স্বাস্থ্যবীমা খাতের কিছু কোম্পানির পতন বাজারের উত্থানকে সীমিত রেখেছে। কংগ্রেসে স্বাস্থ্যসেবা কর ছাড় বাড়ানো হবে কিনা, সে সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা খাতটিকে চাপে ফেলেছে। এ জটিলতাই মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের কারণ।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারদর কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। এদিন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন বাফেট। জানুয়ারিতে সিইও পদ ছাড়তে যাওয়া এ ধনকুবের জানান, আগামী কয়েক দশকে অন্যান্য অনেক কোম্পানি বার্কশায়ারের তুলনায় ভালো পারফর্ম করতে পারে। এর কারণ হলো বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বড় আয়তন।
মার্কিন শীর্ষস্থানীয় মাংস বিক্রেতা কোম্পানি টাইসন ফুডসের শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি মুনাফা করেছে তারা।
আর্থিক ডাটা পরিষেবাদাতা ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে তালিকাভুক্ত প্রতি পাঁচ কোম্পানির চারটির মুনাফা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়মিত বিষয় হলেও এবার কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ ছিল বেশি। কারণ এপ্রিল থেকে শেয়ারদরের ব্যাপক উত্থানকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে এসব কোম্পানির ভালো মুনাফা দরকার ছিল।