PDA

View Full Version : এশিয়ার স্পট মার্কেটে নয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে এলএনজির দাম



Montu Zaman
2026-01-26, 04:28 PM
http://forex-bangla.com/customavatars/326059779.jpg
শীতের প্রকোপে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় হিটিং বা ঘর উষ্ণ রাখায় জ্বালানি চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাবে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম গত নয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৩৫ সেন্ট, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০ ডলার ১০ সেন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দর বেড়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা গত ২১ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এ বিষয়ে ব্রেইনচাইল্ড কমোডিটি ইন্টেলিজেন্সের বাজার বিশ্লেষক ক্লাস ডোজেম্যান বলেন, ‘এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শীতের তীব্রতা এখনো বজায় থাকায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি পণ্যগুলোর চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।’
ইউরোপেও একইভাবে বেড়েছে শীতের দাপট। ফলে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় সংযোজিত মূল্যে (প্রিমিয়াম) এলএনজি বেচাকেনা হচ্ছে। এমনকি এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের বাজারের মিল না থাকায় বেশ কয়েকটি এলএনজি জাহাজ দিক পরিবর্তন করে ইউরোপের পথে গেছে।
শিপট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অন্তত দুটি এলএনজি ট্যাংকার এশিয়ামুখী যাত্রা বাতিল করে ইউরোপ ও তুরস্কের দিকে গেছে।
ড্যাভেনপোর্ট এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার টবি কপসন বলেন, ‘সাম্প্রতিক শৈত্যপ্রবাহ ও সামনের মাসের সরবরাহ চুক্তিগুলোর তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বগতির পরও বাজার ধীরে ধীরে অস্থিতিশীলতা সামলে নিচ্ছে। তবে এলএনজির মৌলিক চাহিদা এখনো তুলনামূলক দুর্বল। বাজারে জ্বালানি পণ্যটির পর্যাপ্ত সরবরাহও রয়েছে। এছাড়া চীনা ক্রেতারা এ দরেই এলএনজি বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে দীর্ঘ সময় তাপমাত্রা কম না থাকলে জ্বালানি পণ্যটির উচ্চদর স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে মার্চে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৬২ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৮১ সেন্ট কম।
একই কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউতে ১১ ডলার ৭৬ সেন্ট নির্ধারণ করেছে আর্গাস। আর স্পার্ক কমোডিটিজ ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে তা নির্ধারণ করেছে এমএমবিটিইউতে ১২ ডলার ৪৪ সেন্ট।
আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘*মাসের শেষ দিকে রাশিয়ার দিক থেকে খুব ঠাণ্ডা বাতাস ইউরোপের দিকে আসতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের এমন আশঙ্কায় এলএনজির দাম বেড়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতেও ঠাণ্ডা আবহাওয়া বজায় থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানিতে সম্ভাব্য বিঘ্নের শঙ্কা দামে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতের কারণে মার্কিন এলএনজি রফতানিতে স্বল্পমেয়াদি ব্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।’
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান বলেন, ‘*গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ১৬ হাজার ২৫০ ডলারে নেমেছে। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা নেমে এসেছে দৈনিক ৩৪ হাজার ২৫০ ডলারে।