PDA

View Full Version : ‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’ এআই এজেন্টের অধীনে কায়িক শ্রম দেবে মানুষ



SumonIslam
2026-02-10, 04:35 PM
http://forex-bangla.com/customavatars/2102972680.jpg
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের অধীনে এখন থেকে কর্মী হিসেবে কাজ করবে মানুষ। এমনই এক নতুন প্লাটফর্ম নিয়ে এসেছে ‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’। সাইটটি নিজেদের ‘এআইয়ের জন্য মিটস্পেস লেয়ার’ (মানুষের কায়িক শ্রমের স্তর) হিসেবে দাবি করছে। বিষয়টি প্রযুক্তি বিশ্বে এক ‘ভুতুড়ে’ ও নেতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
কাজটি অনেকটা গিগ ইকোনমি প্লাটফর্ম ‘টাস্ক র*্যাবিট’-এর মতো, তবে এখানে কর্মীর ‘বস’ কোনো মানুষ নয়, বরং একটি রোবট বা এআই। যেসব কাজ এআই নিজে শারীরিকভাবে করতে পারে না, যেমন পার্সেল সংগ্রহ করা, কোনো বিজ্ঞাপন বোর্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা কাউকে উপহার পৌঁছে দেয়া, সেগুলোর জন্য তারা প্লাটফর্মে টাস্ক বা কাজ পোস্ট করবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা এসব কাজ সম্পন্ন করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে পাবেন ক্রিপ্টোকারেন্সি
প্লাটফর্মটির দাবি, এ কাজের জন্য এরই মধ্যে ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছে। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গিজমোডো জানিয়েছে, এ নিবন্ধিতদের মধ্যে খুব সামান্য অংশই অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট যুক্ত করেছেন। এছাড়া আরো একটি বড় অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৮১ হাজার, সেখানে নিয়োগকর্তা হিসেবে সক্রিয় এআই এজেন্ট কাজ করছে ৮২টি।

প্লাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার লিটেপলো। তার মতে, রেন্ট-আ-হিউম্যানে এআই এজেন্টরা বাস্তব জগতের কায়িক শ্রমের জন্য মানুষকে খুঁজে নিতে, বুকিং দিতে ও পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারবে।

প্লাটফর্মটি গত সপ্তাহে চালুর সময় লিটেপলো দাবি করেছিলেন, এ কাজের জন্য নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ‘অনলিফ্যানস’ মডেল এবং একজন এআই স্টার্টআপের প্রধান নির্বাহীও (সিইও) রয়েছেন। তবে এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মাত্র দুদিন পর সাইটটি দাবি করে, সেখানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ‘রেন্টেবল মিটওয়াডস’ (ভাড়ার যোগ্য মানুষ) রয়েছে। যদিও সাইটটির ‘ব্রাউজ হিউম্যান’ ট্যাবে লিটেপলো নিজেসহ মাত্র ৮৩টি প্রোফাইল দৃশ্যমান ছিল।

তবে প্রকল্পটি কেবল পরীক্ষামূলক কোনো উদ্যোগ নাকি বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রচলিত শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত এ শ্রমবাজার শেষ পর্যন্ত কর্মীদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়েবসাইটটিতে কোনো প্রকার পরিহাস ছাড়াই ‘রোবটদের আপনার শরীরের প্রয়োজন’-এর (রোবটস নিড ইউর বডি) মতো বাক্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

‘রেন্ট-আ-হিউম্যান’ মূলত ওপেনক্ল এবং মল্টবুকের মতো একই ইকোসিস্টেম থেকে উঠে এসেছে। এগুলো সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এআই এজেন্ট টুল। ডেভেলপারদের ভাষায়, এসব প্রকল্প মূলত ‘ভাইব কোডিং’-এর মাধ্যমে তৈরি। এ পদ্ধতিতে নির্মাতারা কোডগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা না করেই বাজারে ছেড়ে দেন এবং পরে এআই মডেলের মাধ্যমেই সেগুলোর ত্রুটি সংশোধন করা হয়।