PDA

View Full Version : ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির



SumonIslam
2026-04-10, 05:20 PM
http://forex-bangla.com/customavatars/1837102071.jpg
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বাহ্যিক ও আর্থিক খাতের চাপে প্রভাবিত হচ্ছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি দাঁড়াতে পারে ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেড়ে হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই পূর্বাভাসই গত অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।
আজ প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) এপ্রিল ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমে যাওয়ায় ভোগ ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার হবে এ অর্থবছরে। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহ চেইন বিঘ্ন গত প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলেছিল। তবে এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বাহ্যিক ও আর্থিক খাতের চাপে প্রভাবিত হচ্ছে।’

তিনি আশা করেন, নতুন সরকারের সংস্কার এজেন্ডা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার ও এ প্রক্রিয়াকে সহায়তার একটি সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে। সুপরিকল্পিত নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরো সহনশীল হয়ে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারবে।
পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকবে, ৯ শতাংশ। তবে কিছুটা হ্রাসও পাবে। কারণ হিসেবে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্নকে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি আশা করা হচ্ছে। তখন অর্থনীতিতে বাহ্যিক অভিঘাত কমে আসবে এবং দেশীয় সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হবে।

চলতি হিসাব অনুসারে, চলমান অর্থবছরে জিডিপিতে ঘাটতি থাকতে পারে ঋণাত্মক দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০২৭ অর্থবছরে সালে সামান্য বেড়ে ঋণাত্মক দশমিক ৬ শতাংশ হবে। এর পেছনে রয়েছে আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতির সম্প্রসারণ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী আয় স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে এডিবি। আরো বলা হয়েছে, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, নির্বাচন-সংক্রান্ত সরকারি ব্যয় এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলে ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।

তবে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও চলমান মূল্যসংকোচন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে। ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের নমনীয়তা কমে যাবে।

এডিবি বলছে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যদি দাম না বাড়ায় বা ভর্তুকি বাড়ায়, তাহলে সরকারের বাজেটের চাপ বেড়ে যায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়লে রফতানি ও প্রবাসী আয় কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও ফ্রেইট রেট বাড়লে চলতি হিসাব আরো চাপের মধ্যে পড়বে। কারণ এরই মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় তারল্য টানটান অবস্থায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে অর্থনীতির ঝুঁকির ভার স্পষ্টভাবে খারাপ হওয়ার দিকেই ঝুঁকে আছে। ভালো হওয়ার চেয়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাই বেশি। এটা দেখায় যে, বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির বড় ধাক্কা বা সংকটের প্রতি এখনো বেশ সংবেদনশীল। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এর সঙ্গে আরেকটা বিষয় যোগ করা হয়েছে এডিবির পূর্বাভাসে। তা হলো—প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট যেকোনো ধাক্কাও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে আছে।