২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ডিজিটাল ব্যবসায় নতুন অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজনের অর্ধেকই তৈরি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে। তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং ভোক্তা প্রযুক্তি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি সম্প্রতি এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘ফিউচারস্কেপ ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের দিনে এআইতে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলো আগামী কয়েক বছরে আইটি খাতে ব্যবসায়িক সফলতা ও অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আইডিসি ফিউচারস্কেপ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়া-প্যাসিফিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর এআইয়ের প্রতি মনোযোগ ভবিষ্যতে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছবে, যেখানে এআই স্বায়ত্তশাসিতভা ে কাজ করবে এবং মানুষ তা থেকে সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা নেবে।
আইডিসি এশিয়া-প্যাসিফিকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্যান্ড্রা এনগ বলেন, ‘২০২৬ সাল হলো এজেন্টিক এরা বা স্বয়ংসম্পূর্ণ এআইয়ের যুগের সূচনা। এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বের হয়ে এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে এআই মানুষের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। সফলতার মানদণ্ড হবে নেতৃত্বের স্পষ্টতা ও দায়িত্বশীলভাবে এআইয়ের ব্যবহার।’
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1234714437.jpg[/IMG]
অনুষ্ঠানে আইডিসির নতুন ‘কাস্টমার এআই জার্নি’ ফ্রেমওয়ার্কও উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের এআই পরিপক্বতা মূল্যায়ন, সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ব্যবহারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং ব্যবসায়িক প্রভাব পরিমাপ করতে সাহায্য করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে এশিয়ার প্রায় ৪৫ শতাংশ এআইচালিত ডিজিটাল প্রকল্প প্রত্যাশিত মাত্রায় বিনিয়োগের বিপরীতে আয় (আরওআই) অর্জন করতে ব্যর্থ হবে। লক্ষ্যের অস্পষ্টতা ও তথ্যভিত্তির দুর্বলতাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিকের আইটি খাতে মোট ব্যয় বেড়ে ১১ লাখ ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের ৬০ শতাংশ সিইও এআই চালিত ব্যবসায়িক মডেল বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া গবেষণায় মাল্টি-এজেন্ট অভিজ্ঞতা, এআই এক্সেলেন্স সেন্টার স্থাপন এবং নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ ব্যবসায়িক অর্জন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেবে।

এনগ বলেন, ‘এআই সম্পাদনা করে, মানুষ ব্যাখ্যা করে। এআই পূর্বাভাস দেয়, মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়। এজেন্টিক ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির অপেক্ষা করে না, এটি উদ্ভাবন ও কাজকে পুরস্কৃত করে।’