এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অধিকাংশ শেয়ার সূচক ঊর্ধ্বমুখী
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/412521784.jpg[/IMG]
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদরে বড় পতনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তন ও বৈশ্বিক সফটওয়্যার খাতের ব্যবসায়িক মডেল হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধরনের বিক্রয়চাপ দেখা গেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর এ মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অধিকাংশ শেয়ারবাজারে গতকাল দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের শেয়ার সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কসপি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সূচকটি গতকাল ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৩৭১ দশমিক ১০ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ারদর এদিন প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে, যা সামগ্রিক সূচক বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। চীনের মূল ভূখণ্ডের সাংহাই কম্পোজিট সূচক দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক দশমিক ১ শতাংশের কম এবং ভারতের সেনসেক্স দশমিক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ এদিন দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯২৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অধিকাংশ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও জাপানে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। টোকিও শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ মঙ্গলবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর গতকাল পতন হয়েছে। এ সময় সূচকটি দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫৪ হাজার ২৯৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। মূলত চিপ নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় সূচকটির পতন হয়েছে।
জাপানি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রন ও টেস্টিং ইকুইপমেন্ট প্রস্তুতকারক অ্যাডভানটেস্ট—উভ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর গতকাল ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এছাড়া জাপানের ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনতেনদোর শেয়ারদর ১১ শতাংশ কমেছে। গত বছর বাজারে আসা ‘সুইচ ২’ গেম কনসোলের বিক্রয় ধারা ভবিষ্যতে বজায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বড় ধরনের পতনের শিকার হয়েছে।
বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের বর্তমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের প্রযুক্তি খাতের বড় দরপতন। এআই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ ক্লদ কোওয়ার্ক এজেন্টের জন্য নতুন প্লাগইন চালুর ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই সফটওয়্যার খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের নতুন এ অগ্রগতি ডাটা অ্যানালিটিকস এবং প্রফেশনাল সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রধান নাসডাক সূচক গতকাল ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এনভিডিয়ার শেয়ারদর ২ দশমিক ৮ ও মাইক্রোসফটের শেয়ারদর ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সেলসফোর্স, অ্যাডোবি ও ডেটাডগের মতো বড় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও কমেছে।
ইউরোপের শেয়ারবাজারে এদিন মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক দশমিক ৬ শতাংশ বাড়লেও জার্মানির ডিএএক্স সূচক দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এদিন ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর। স্থূলতা কমানোর ওষুধ ওয়েগোভি ও ওজেম্পিকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক ২০২৬ সালের জন্য নেতিবাচক ব্যবসায়িক পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮ শতাংশ কমেছে।
আইজির প্রধান বাজার কৌশলবিদ ক্রিস বিউচ্যাম্প মনে করেন, এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ও পরিবর্তিত ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে অনেক কোম্পানি এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে পড়েছে। এআই প্রযুক্তি এ খাতের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য এমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে যে সেগুলোর ব্যবসায়িক মডেল টিকে থাকা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। আর বিনিয়োগকারীদের এ আশঙ্কার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে, যা বিশ্বজুড়ে পতনের ধারা তৈরি করেছে।