বিবর্তনের পাঁচটি ধাপ — পাকস্থলীর ভেতর দিয়ে রচিত সভ্যতার পথ
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/759069268.jpg[/IMG]
মানব ইতিহাস কেবল যুদ্ধ ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বিবরণ নয়। এটি যেন এক বৃহৎ রন্ধনগত রোমাঞ্চ, যেখানে ক্যালরি সংগ্রহের উপায়ই আমাদের প্রজাতির টিকে থাকার শর্ত নির্ধারণ করেছে। আমরা প্রায়ই পৃথিবীর ওপর আমাদের আধিপত্যকে উন্নত বুদ্ধিমত্তার ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করি—কিন্তু এই বুদ্ধিমত্তা কিন্তু খাদ্যাভ্যাসের রূপান্তরের ফলেই অর্জিত হয়েছে।
আগুন বিপ্লব — কে আমাদের গরম গরম খাবার রান্না করতে শেখাল?
প্রায় এক মিলিয়ন বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষেরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক অগ্রগতি অর্জন করেছিল: তারা আগুনে ঝলসে বা ফুটিয়ে খাবার রান্না করতে শিখে যায়। গরম তাপে খাবার রান্না করার প্রক্রিয়াটি প্রকৃত অর্থে হজম প্রক্রিয়া অনেক সহজ করে দেয়। আগুনের তাপে শক্ত খাবারগুলো নমনীয় হয় ও চিবানোর সময়ও অনেক কমে যায়। স্বল্প সময়ে রান্না করা খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার ফলে মানুষেরা তাঁদের মস্তিষ্ককে কাজে লাগাতে শুরু করে। অনবরত কাঁচা আঁশ চিবিয়ে সময় কাটানোর বদলে আমাদের পূর্বপুরুষেরা সামাজিকতার প্রক্রিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ল। ফলে তারা সত্যিকার অর্থে তাঁদের বুদ্ধিমত্তা বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে শুরু করে।
নিয়োলিথিক বিপ্লব — রুটির জন্য বসতি স্থাপন
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1430716030.jpg[/IMG]
দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিতরা ধারণা করতেন যে প্রথমে কৃষি বিপ্লব শুরু হয়, তারপর পৃথিবীতে রুটি বানানো শুরু হয়। কিন্তু জর্ডানে খুঁজে পাওয়া এক আবিষ্কার সেই ধারণা বদলে দিল। প্রত্নতাত্ত্বিকর ১৪,০০০ বছরের পুরনো খামিরবিহীন সমতল রুটির অংশবিশেষ খুঁজে পেয়েছেন। নাতুফিয়ান শিকারী ও সংগ্রাহকরা আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার হাজার বছর আগেই আটা থেকে রুটি তৈরি করত। এই রুটির স্বাদ এবং বন্য গমক্ষেতের নিকটবর্তী স্থানে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে এক জায়গায় আবদ্ধ করে দিল—এই রন্ধনগত আবিষ্কারই বসতি স্থাপনের ধারণাকে উৎসাহিত করে এবং পৃথিবীর ভূদৃশ্য স্থায়ীভাবে বদলে যায়।
কৃষি বিপ্লব — সাম্রাজ্য সৃষ্টিকারী সেই শক্তি
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/56276199.jpg[/IMG]
প্রায় ১০,০০০ বছর আগে মানুষ যখন পুরোপুরিভাবে উদ্ভিদ ও পশুপালন নিয়োজিত হয়, ইতিহাস আরও গতিশীলতা অর্জন করে। ষাঁড় ও লাঙ্গল এই দুইয়ের সমন্বয়ে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন শুরু হয়। এই উদ্বৃত্ত থাকা খাদ্যই বড় আকারে শ্রমবাজারের সূচনা ঘটায়—সবাইকে আর খাদ্যের পেছনে ছুটতে হয়নি। যোদ্ধা, পুরোহিত, কারিগর ও অভিজাত শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে। হাজার হাজার মানুষকে সংগঠিত করার প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রের ধারণা জন্ম নেয়। মানুষ তাদের ক্ষেতের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে গেল; যাযাবর জীবনের স্বাধীনতার বদলে স্থিতিশীলতা ও কঠোর স্তরবিন্যাস পুরনো সাম্রাজ্যগুলোর ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ঔপনিবেশিক বিপ্লব — জিনের বৈশ্বিক বিনিময়
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/811983569.jpg[/IMG]
ষোড়শ শতাব্দীতে 'কলম্বিয়ান এক্সচেঞ্জ' নামে পরিচিত এক ঘটনা বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাসকে বদলে দেয়। মানুষ ও জাহাজের সাহায্যে এক অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী মহাসাগর পাড়ি দিয়ে অন্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। জাহাজের মাধ্যমে খাদ্যের বিশ্বায়ন শুরু হয়। আলু, টমেটো এবং ভুট্টা ইউরোপে পৌঁছে 'প্রাচীন বিশ্বের' জনগোষ্ঠীর খাদ্যে পরিণত হয়। বিনিময়ে আমেরিকায় গম, ঘোড়া, চিনি ও কফি পৌঁছালো। এই জৈবিক বিনিময় দেশীয় রান্নাঘরগুলোকে নতুন রূপ প্রদান করে—এবং আজও তা চলমান রয়েছে।
শিল্প বিপ্লব — অভাবের ওপর জয়?
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/8911909.jpg[/IMG]
বিংশ শতাব্দীতে খাদ্য শিল্পজাত পণ্য হয়ে ওঠে। যান্ত্রিকীকরণ ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে ব্যাপকভাবে খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং পৃথিবীর জনসংখ্যাও বিস্ফোরকভাবে বৃদ্ধি পায়। বড় বড় খামারগুলো খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পাস্তুরাইজেশন ও টিনের বক্সের মধ্যে করে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা ছাড়াই খাদ্যপণ্যগুলো মহাসাগর পাড়ি দিতে সক্ষম হয়। মানবজাতি প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে খিদের ভয়কে উপেক্ষা করতে সক্ষম হয়। খাদ্যের এই প্রাচুর্য মানবদেহকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়: গত ১০০ বছরে মানুষের গড় উচ্চতা ও ওজন উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।