অটোপাইলট দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, টেসলার ২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা বহাল
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1802285344.jpg[/IMG]
যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতের রায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। গত বছরের একটি জুরির রায় বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে গুনতে হচ্ছে ২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা। মার্কিন জেলা জজ বেথ ব্লুম জুরির আগের সিদ্ধান্তটিই বহাল রাখেন। ২০১৯ সালে টেসলার ‘অটোপাইলট’ ফিচারের কারণে ঘটা একটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আংশিকভাবে দায়ী করে এ রায় দেয়া হয়েছিল। বিচারক উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের আগস্টে দেয়া জুরির রায় বহাল রাখার মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ওই রায়ে মামলার দুই ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক দণ্ড হিসেবে কয়েক মিলিয়ন ডলার প্রদানের জন্য টেসলাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বিচারক ব্লুম আরো যোগ করেন আগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নতুন কোনো যুক্তি টেসলা উপস্থাপন করতে পারেনি।
মামলাটি সম্প্রতি গতি পেলেও এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। সে সময় টেসলার ‘মডেল এস’ চালক জর্জ ম্যাকগি গাড়ির অটোপাইলট ফিচার চালু রেখে নিচে পড়ে যাওয়া একটি ফোন তোলার চেষ্টা করেন। ওই অবস্থায় গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি এসইউভিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাইবেল বেনাভিডেস লিওন এবং ডিলন অ্যাঙ্গুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে বেনাভিডেস প্রাণ হারান এবং অ্যাঙ্গুলো গুরুতর আহত হন।
তবে এর আগে টেসলা বলছিল, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক জর্জ ম্যাকগি। কোম্পানিটির ভাষ্য, ’২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। গাড়ি নির্মাতারা বেপরোয়া চালকদের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার দায় নিতে পারে না।’ বিচারে বাদীপক্ষের দাবি ছিল, অটোপাইলট চালককে সতর্ক করেনি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেকও কষেনি। তারা ইলোন মাস্কের দেয়া কিছু বক্তব্যও তুলে ধরে, যা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ করেন।
বিবিসির আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার রায় বাতিলের জন্য ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। সে দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।
জরিমানার বিষয়ে টেসলা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে টেসলার আইনজীবীরা এ দুর্ঘটনার জন্য চালককে এককভাবে দায়ী করার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি ছিল, গাড়ি বা এর অটোপাইলট ফিচারে কোনো ত্রুটি ছিল না।
গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি যখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে, ঠিক সে সময়েই টেসলার অটোপাইলট ও ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (এফএসডি) ফিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশ বেশ কয়েকটি তদন্ত চালাচ্ছে।
২০২৫ সালের রায়টি ছিল অটোপাইলট ফিচারের কারণে ঘটা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার বিপরীতে কোনো ফেডারেল জুরির দেয়া প্রথম রায়। যদিও এর আগে অটোপাইলট মোডে থাকা টেসলা গাড়ির একাধিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে।