প্রতিরক্ষা ও এআই খাতে ব্যয় বাড়ায় বৈশ্বিক ঋণ রেকর্ড ৩৪৮ ট্রিলিয়ন ডলারে
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1564450192.jpg[/IMG]
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স (আইআইএফ) গত বুধবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। করোনা মহামারীর পর এক বছরে ঋণের এমন বিশাল উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। সংস্থাটি জানায়, গত বছরের ২৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বাড়ার পেছনে মূল কারণ ছিল বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশগুলোর সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বড় অংকের বিনিয়োগ ঋণের এ বোঝাকে আরো ভারী করেছে।
আইআইএফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আগামী বছরগুলোয় এ ঋণের ভার কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং প্রতিরক্ষা খাতের উচ্চ ব্যয় ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার কারণে সামনের দিনগুলোয় বৈশ্বিক ঋণের পরিস্থিতি আরো শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে।
আইআইএফের পরিসংখ্যানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ পরিবারের ঋণের বোঝা সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ বাড়লেও বৈশ্বিক উৎপাদনের তুলনায় ঋণের অনুপাত টানা পঞ্চম বছরের মতো কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত দাঁড়িয়েছে মোট জিডিপির প্রায় ৩০৮ শতাংশে। সাধারণত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এ অনুপাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে ব্যাংক খাতের বৈশ্বিক সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ঋণের অনুপাত কমে আসার চিত্রটি কেবল বেসরকারি খাতের ঋণ কমে যাওয়ার ফল। বিপরীতে, মোট উৎপাদনের তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
টুয়েন্টিফোর অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড ম্যানেজার গর্ডন শ্যানন পরিসংখ্যান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবার নজর মূলত এআই খাতে বড় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও ঋণের দিকে। কিন্তু আইআইএফের প্রতিবেদন আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ আসে সরকারি খাত থেকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রেকর্ড পরিমাণ সরকারি ঋণ বা বন্ড ইস্যু করার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনেক দেশের জন্যই ঋণের খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, করোনা মহামারী-পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিশাল বন্ড কেনা কর্মসূচি থেকে সরে আসায় এ ঋণের বোঝা আরো অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
আইআইএফ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হারের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং আর্থিক খাতের ওপর শিথিল নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে সবকিছুর প্রভাবে আগামী বছরগুলোয় ঋণের বোঝা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আইআইএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ঋণ ও জিডিপির অনুপাত ১৮ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি বাড়তে পারে।