হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের পলিসি বাতিল ও খরচ বাড়চ্ছে
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1455404338.jpg[/IMG]
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব নৌবাণিজ্যে। ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বীমা কোম্পানিগুলো ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের পলিসি সুবিধা বাতিল করছে এবং প্রিমিয়ামের হার অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার ঘটনার পর গত শনিবার জাহাজ মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে বৈশ্বিক বীমা কোম্পানিগুলো। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের বীমা পলিসিগুলো বাতিল করা হবে অথবা কভারেজের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ‘ওয়ার রিস্ক ইন্স্যুরার’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমাকারীরা গত শনিবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ তেল পরিবহন পথে চলাচলকারী জাহাজের বীমা বাতিলের নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে। ব্রোকাররা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে এ পথে জাহাজ চলাচলের বীমা খরচ বা প্রিমিয়াম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এ হরমুজ প্রণালি হয়ে যায়। তাই বীমা কোম্পানিগুলোর এমন কঠোর পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাহাজ মালিকদের এখন হয় আকাশচুম্বী প্রিমিয়াম দিয়ে এ পথে চলতে হবে, অথবা বিকল্প ও দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হবে, যা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল।
এতদিন পারস্য উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বীমা খরচ ছিল একটি জাহাজের মোট প্রতিস্থাপন মূল্যের প্রায় দশমিক ২৫ শতাংশ। বীমা ব্রোকার প্রতিষ্ঠান মার্শের ইউকে ওয়ার লিডার ডিলান মর্টিমার জানান, এ বীমা মাশুল এখন আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বীমার এ বাড়তি হারের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিলান মর্টিমার জানান, ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি জাহাজের ক্ষেত্রে বীমা খরচ আগে ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এখন তা বেড়ে প্রতিটি যাত্রার জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, একেকটি যাত্রার জন্য জাহাজ মালিককে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার গুনতে হবে।
একই অবস্থা ইসরায়েলি বন্দরগুলোয় ভেড়ানো জাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও। সাম্প্রতিক হামলার আগে ইসরায়েলি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের বীমা মাশুল ছিল মূল্যের দশমিক ১ শতাংশ। ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় বীমাকারীরা এখন সেই খরচও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারেন।
মর্টিমার আরো জানান, ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় কিনা তা নিয়ে বীমাসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কাজ করছে। পাশাপাশি সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোয় হামলা বা সেগুলো জব্দ করার চেষ্টা করতে পারে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে কেবল জাহাজ নয়, জাহাজে থাকা পণ্য (যেমন ভোজ্যতেল, শস্য বা জ্বালানি তেল) বীমাকারীরাও আগামী সোমবার থেকে পলিসিগুলো বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্য এক ব্রোকার। তবে ব্রোকারদের মতে, বীমাকারীরা এ অঞ্চলে যাতায়াতকারী জাহাজের বীমা সুবিধা একেবারে বন্ধ না করে, বরং উচ্চ মূল্যে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পথ বেছে নেবে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে অনেক জাহাজ মালিক এখন পিছু হটছেন। গত শনিবার অন্তত তিনটি বিশাল জাহাজ এ সরু জলপথ দিয়ে না গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। সংকীর্ণ এ পথে হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই মালিকপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক জানিয়েছে, কিছু জাহাজ এরই মধ্যে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের পক্ষ থেকে রেডিও বার্তা পেয়েছে। ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছে, জলপথটি এখন জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।