যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নিম্নমুখী বৈশ্বিক শেয়ারবাজার
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/920387314.jpg[/IMG]
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গতকাল বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। উল্টোদিকে সরবরাহ সংকটের আতঙ্কে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারের এ অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারেও। মার্কিন ফিউচার মার্কেট খোলার আগেই গতকাল সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যত বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা ততটাই প্রবল হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের প্রধান পুঁজিবাজারগুলোয়ও লেনদেন শুরুর পর পরই বড় ধস নেমেছে। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮ হাজার ২০৭ দশমিক ১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জার্মানির ডিএএক্স সূচকের পতন হয়েছে আরো ভয়াবহ। এটি ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৬২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়া ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। গত সোমবার সরকারি ছুটির পর গতকাল কসপি সূচকের ৭ দশমিক ২ শতাংশ পতন ঘটে, যা দিনশেষে ৫ হাজার ৭৯১ দশমিক ৯১ পয়েন্টে স্থির হয়।
এদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার থেকেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৬ ডলার বেড়ে ৮১ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দামও ৩ দশমিক ২৪ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে।
জাপানের পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ গতকাল ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৫৬ হাজার ২৭৯ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্টে দিন শেষ করেছে। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো জাপানও হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মুখে রয়েছে। উল্লেখ্য, জাপানের ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বিশাল অংশ এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তবে বাজার বিশ্লেষকরা কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তাদের মতে, জাপানের কাছে বর্তমানে ২০০ দিনেরও বেশি সময়ের জ্বালানি মজুদ রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
এদিকে এশিয়ার অন্য পুঁজিবাজারগুলোয়ও গতকাল নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯ হাজার শূন্য ৭৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পুঁজিবাজারের পাশাপাশি বড় সংকটের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোও। গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিটে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড ও ডেল্টার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে।
ওয়াল স্ট্রিটের ধারাবাহিকতায় এশিয়ার এয়ারলাইনগুলোর শেয়ারদরেও বড় ধরনের পতন লক্ষ করা গেছে। জাপানের এএনএএ শেয়ার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং জাপান এয়ারলাইনসের দর ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
তবে বাজারের এ অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্লেষকরা কিছুটা সংযত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অতীতের সামরিক সংঘাতগুলো বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। মর্গান স্ট্যানলির কৌশলী মাইকেল উইলসনের নেতৃত্বাধীন একটি দলের মতে, মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী ধস নামাতে হলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে হবে। তেলের দাম সে পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন না তারা।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার স্টিফেন ইনেস বাজারের এ অস্থিরতা নিয়ে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ততক্ষণ পর্যন্ত পুঁজিবাজারকে লাইনচ্যুত করতে পারে না, যতক্ষণ না তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।