যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রযুক্তির হাইব্রিড গাড়ি আনছে নিশান
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1427632148.jpg[/IMG]
‘ই-পাওয়ার’ নামের এ বিশেষ প্রযুক্তির গাড়িটি ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) মতো চললেও এতে কোনো চার্জিং প্লাগের প্রয়োজন হবে না। এটি মূলত একটি গ্যাসোলিন বা পেট্রল ইঞ্জিনের সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সাধারণ হাইব্রিড গাড়ির সঙ্গে নিশানের এ নতুন প্রযুক্তির বড় পার্থক্য রয়েছে। টয়োটা প্রিয়াসের মতো প্রচলিত হাইব্রিড গাড়িগুলোয় ইঞ্জিন সরাসরি চাকা ঘোরাতে অংশ নেয়। কিন্তু নিশানের ই-পাওয়ার সিস্টেমে চাকা ঘোরে শুধু শক্তিশালী ইলেকট্রিক মোটরের সাহায্যে। গাড়িতে থাকা ছোট একটি গ্যাসোলিন ইঞ্জিন এখানে জেনারেটর হিসেবে কাজ করে, যা কেবল ব্যাটারি চার্জ করে বা মোটরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ফলে চালক কোনো চার্জিং স্টেশনে না গিয়েও ইভির অভিজ্ঞতা পাবেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইভির বাজার কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চার্জিং সমস্যার কারণে অনেক গ্রাহকই এখন ইভি থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ পরিস্থিতিতে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। নিশান তাদের জনপ্রিয় মডেল ‘রোগ’ এসইউভিতে এ প্রযুক্তি প্রথম যুক্ত করতে যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি প্রায় ১৮ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। নিশান এরই মধ্যে জাপান, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে এ প্রযুক্তির ১৬ লাখের বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে। আমেরিকান গ্রাহকদের পছন্দ মাথায় রেখে এবার আরো শক্তিশালী দেড় লিটার টার্বোচার্জড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এ সিস্টেমে।
এ প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর জ্বালানি সাশ্রয় ও শান্ত পরিবেশ। এতে প্রচলিত গিয়ারবক্স বা ট্রান্সমিশন না থাকায় গাড়ির ভেতরে শব্দ ও কম্পন অনেক কম হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, শহরের রাস্তায় এটি প্রতি গ্যালন জ্বালানিতে প্রায় ৪০ মাইলের বেশি মাইলেজ দিতে সক্ষম। নিশান কর্তৃপক্ষ মনে করছে, যারা এখনো পুরোপুরি ইভিতে যেতে প্রস্তুত নন, তাদের জন্য এ ‘ই-পাওয়ার’ প্রযুক্তি একটি চমৎকার সমাধান হবে। খবর সিএনবিসি ছবি নিশান মোটরস