বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন জ্বালানি তেল
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/29515325.jpg[/IMG]
লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এ তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারটি ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে। এদিকে বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এ তেলের জাহাজটি সে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। খবর বাসস।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরো এক লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট দুই লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এ দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার টন ডিজেল, ৩২ হাজার টন পেট্রল, ১৬ হাজার টন অকটেন, ৪৮ হাজার টন ফার্নেস অয়েল ও ৪২ হাজার টন কেরোসিন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এ জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।