1 Attachment(s)
Eur/jpy পেয়ারটি নিয়ে এখন বাই করব না সেল করব ??
Eur/jpy পেয়ারটি নিয়ে এখন বাই করব না সেল করব—এই প্রশ্নটা অনেক ট্রেডারের মাথায় ঘুরছে। আসলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের একটু ঠান্ডা মাথায় মার্কেটের বর্তমান অবস্থা, ফান্ডামেন্টাল দিক এবং টেকনিক্যাল সেটআপ—সবকিছু মিলিয়ে বিচার করা দরকার।
প্রথমে যদি ফান্ডামেন্টাল দিকটা দেখি, তাহলে ইউরো এবং জাপানি ইয়েন—দুটো কারেন্সির পেছনে আলাদা আলাদা গল্প কাজ করছে। ইউরোপের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্ট্যাবল হলেও এখনও কিছু অনিশ্চয়তা আছে, বিশেষ করে ইনফ্লেশন আর সুদের হার নিয়ে। অন্যদিকে জাপানের সেন্ট্রাল ব্যাংক অনেকদিন ধরে লো ইন্টারেস্ট রেট পলিসি ধরে রেখেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারা কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই কারণে ইয়েন মাঝে মাঝে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
যখন ইয়েন শক্তিশালী হয়, তখন সাধারণত eur/jpy পেয়ার নিচের দিকে যেতে চায়। আবার যখন ইউরো শক্তিশালী হয় বা মার্কেটে রিস্ক-অন মুড থাকে, তখন এই পেয়ার উপরের দিকে ওঠে। তাই এখানে সরাসরি বাই বা সেল বলার আগে বুঝতে হবে এখন মার্কেট কোন সাইডে ঝুঁকছে।
এখন যদি টেকনিক্যাল দিকটা দেখি, তাহলে প্রথমে বড় টাইমফ্রেম—যেমন ডেইলি বা h4—খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায় ছোট টাইমফ্রেমে বাই সিগনাল দিলেও বড় টাইমফ্রেমে সেটা আসলে একটি রিট্রেসমেন্ট মাত্র। যদি ডেইলি চার্টে ট্রেন্ড আপ থাকে, তাহলে আমরা মূলত বাই সুযোগ খুঁজব। আর যদি ট্রেন্ড ডাউন থাকে, তাহলে সেল প্রাধান্য পাবে।
বর্তমান মার্কেটের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, eur/jpy অনেক সময় রেঞ্জের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। মানে পরিষ্কার ট্রেন্ড না থেকে একটা নির্দিষ্ট সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স এর মধ্যে উঠানামা করছে। এই অবস্থায় নতুন ট্রেডাররা সবচেয়ে বেশি ভুল করে, কারণ তারা মাঝখান থেকে এন্ট্রি নেয়।
এখানে বুদ্ধিমানের কাজ হবে—সাপোর্টের কাছাকাছি বাই চিন্তা করা এবং রেজিস্ট্যান্সের কাছাকাছি সেল চিন্তা করা। মাঝখান থেকে ট্রেড নেওয়া মানে প্রায়ই ঝুঁকি বাড়ানো।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মার্কেটের মোমেন্টাম। যদি দেখা যায় প্রাইস শক্তভাবে উপরের দিকে ব্রেক করছে এবং ভলিউম বা মোমেন্টাম বাড়ছে, তাহলে সেটাকে ফেক ব্রেক না ধরে কন্টিনিউয়েশন হিসেবে ধরা যেতে পারে। তখন বাই নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আবার যদি উপরের দিকে গিয়ে বারবার রিজেকশন দেয়, তাহলে বুঝতে হবে সেলারেরা এখনও শক্তিশালী।
অনেকেই শুধু ইন্ডিকেটরের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু এটা সবসময় ঠিক না। rsi, macd বা মুভিং অ্যাভারেজ ভালো গাইড দিতে পারে, কিন্তু সেগুলোকে প্রাইস অ্যাকশনের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে। যেমন rsi ওভারবট দেখালেই সেল দেওয়া ঠিক না—কারণ ট্রেন্ডিং মার্কেটে rsi অনেক সময় দীর্ঘ সময় ওভারবট থাকতে পারে।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে নিউজ। eur/jpy পেয়ার অনেক সময় নিউজে খুব দ্রুত মুভ করে। বিশেষ করে ecb বা boj সম্পর্কিত খবর এলে মার্কেটে হঠাৎ ভোলাটিলিটি বেড়ে যায়। তাই নিউজ টাইমে ট্রেড করলে স্টপ লস অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।
এখন প্রশ্ন হলো—এই মুহূর্তে বাই না সেল?
এর সরাসরি উত্তর হচ্ছে—ব্লাইন্ডভা ে কোনোটা না। বরং কন্ডিশন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
যদি প্রাইস শক্তিশালী সাপোর্ট থেকে রিজেকশন দেয় এবং বুলিশ ক্যান্ডেল তৈরি করে, তাহলে ছোট রিস্ক নিয়ে বাই নেওয়া যেতে পারে। আর যদি প্রাইস রেজিস্ট্যান্সে গিয়ে দুর্বলতা দেখায়, যেমন পিন বার বা ডাবল টপ তৈরি হয়, তাহলে সেল ভালো অপশন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানি ম্যানেজমেন্ট। অনেক সময় সঠিক দিক ধরেও ট্রেডার লস করে, কারণ সে ওভার লট নেয় বা স্টপ লস ব্যবহার করে না। তাই প্রতি ট্রেডে ছোট রিস্ক রাখা এবং ধারাবাহিকভাবে ট্রেড করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
শেষ কথা হলো—eur/jpy এখন এমন একটা অবস্থায় আছে যেখানে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মার্কেটকে আগে নিজের দিক ঠিক করতে দিন, তারপর এন্ট্রি নিন। তাড়াহুড়া করে বাই বা সেল দিলে বেশি সময় লস হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে।
যারা অভিজ্ঞ তারা জানে—ভালো ট্রেড মানে সবসময় ট্রেড নেওয়া না, বরং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা। তাই এখন যদি ক্লিয়ার সেটআপ না পান, তাহলে সাইডলাইনে থাকাও একটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।