বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবেলায় এডিবির বাড়তি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1908863138.jpg[/IMG]
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সংকট, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বিপুল ব্যয় বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত এ ব্যয়ের কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশের একটি বাংলাদেশ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরো বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।’ গতকাল সমরখন্দে এডিবির বার্ষিক সভার গভর্নরস বিজনেস সেশনে অর্থমন্ত্রী এডিবির কাছে বাড়তি অর্থের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় তিনি এডিবির সময়োপযোগী বাজেট সহায়তার প্রশংসা করেন। বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল অর্থায়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সভায়। এতে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বার্ষিক সভার গভর্নরস বিজনেস সেশনে গতকাল ৪৭টি দেশের মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ‘ক্রসরোডস অব প্রগ্রেস: অ্যাডভান্সিং দ্য রিজিয়নস কানেক্টেড ফিউচার’ শীর্ষক এ সেশনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশও।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে মুদ্রার চাপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এডিবির সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশের জীবিকা ও অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অভিযোজন ও প্রশমন খাতে স্বল্পসুদে জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ এসবের মধ্যে সহনশীল অবকাঠামো, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান ও কার্বন বাজার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও জানানো হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশভিত্তিক জলবায়ু প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’-এ এডিবির নেতৃত্ব আহ্বান করা হয়। এর উদ্দেশ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নদী-খাল পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া।
এডিবির বার্ষিক সভায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী করা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য বাড়তি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন দেশের অগ্রাধিকার। অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে এডিবির সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাসেক উদ্যোগের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সার্ক ও আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব বলে সভায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়ের বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য এডিবির বাড়তি সহায়তা আরো প্রয়োজন।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের কেন্দ্র সমরখন্দ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সংযোগই বাণিজ্য, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমৃদ্ধির ভিত্তি।’
গত ৩ মে উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর সমরখন্দে এডিবির ৫৬তম বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ সভা শেষ হবে আগামীকাল। গতকাল শুরুর অধিবেশনে বক্তব্য দেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মির্জিইয়োভে।