এআই-নির্ভর বিজ্ঞাপনে বাড়ছে ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1962319096.jpg[/IMG]
বিশাল খাতটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কারণে নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলছে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এআই ব্যবহার চলতে থাকলে বৈশ্বিক তথ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘের স্ট্রেনদেনিং ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি: অ্যাডভার্টাইজিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড দ্য গ্লোবাল ইনফরমেশন ক্রাইসিস শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে এআইয়ের দ্রুত ব্যবহার অনলাইনে ভুল তথ্য, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লোবাল কমিউনিকেশনস ও কনশাস অ্যাডভার্টাইজিং নেটওয়ার্ক। এতে বলা হয়, অনলাইনে কোন ধরনের কনটেন্ট বেশি ছড়াবে, কোনটি আয় করবে এবং কোনটি মানুষের সামনে বেশি যাবে, তার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে বিজ্ঞাপন খাত। এখন সে ব্যবস্থার সঙ্গে এআই যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শার্লট স্কাডান জানান, বিজ্ঞাপন মানুষের দেখা, বিশ্বাস করা ও মত গঠনে প্রভাব ফেলে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এআই তথ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা আরো দুর্বল করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে অনেক অনলাইন প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপনের কনটেন্ট সঠিকভাবে যাচাই করা হয় না। ফলে ভুয়া তথ্য ছড়ালেও সে কনটেন্ট আয় করছে। এছাড়া এআই-নির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার কাজের ধরন নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব থাকায় প্রতারণা ও অদক্ষতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
জাতিসংঘ বলছে, এটি শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, ব্যবসার জন্যও বড় ঝুঁকি। যেসব প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সেগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কমে গেলে বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতাও কমে যায়। এতে বিনিয়োগের বিপরীতে আয় বা রিটার্ন কমে যেতে পারে।
কনশাস অ্যাডভার্টাইজিং নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি হ্যারিয়েট কিংএবি জানান, বর্তমানে ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত এআই ব্যবহারের চাপে আছে। কিন্তু সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এআই ব্যবহার করলে শেষ পর্যন্ত সে ডিজিটাল পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার ওপর বিজ্ঞাপন ব্যবসা নির্ভর করে।
প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপনদাতাদের আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতসংঘ বলছে, বিজ্ঞাপন খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো গেলে ব্যবসায়িক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যাবে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মিডিয়া কেনাবেচা প্রক্রিয়ায় (বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ইউটিউব, ফেসবুক বা সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জায়গা কেনাবেচা) স্বচ্ছতা বাড়ালে বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতায় দ্বিগুণ অংকের প্রবৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ দায়িত্বশীল বিজ্ঞাপননীতি শুধু সামাজিকভাবে নয়, ব্যবসায়িকভাবেও লাভজনক হতে পারে।’