ট্রেজারি বন্ডে ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ বিনিয়োগ ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকগুলোর
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/354276339.jpg[/IMG]
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডবাজারে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো। প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ট্রেজারি বন্ড এখন এসব ব্যাংকের হাতে রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্যাংক খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করায় বড় ব্যাংকগুলো আবারো এ বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যের ভিত্তিতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের হিসাব বলছে, চলতি বছরে প্রাইমারি ডিলারদের হাতে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলারের ট্রেজারি বন্ড রয়েছে। ২০২৫ সালে এ পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি ডলারের কম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের ট্রেজারি বাজারের প্রায় ২ শতাংশই এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ।
প্রাইমারি ডিলার হলো এমন বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণপত্র বিক্রি ও লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে এসব ব্যাংক ধীরে ধীরে ট্রেজারি বাজারে অংশ কমিয়ে দেয়। সে সুযোগে হেজ ফান্ড ও বিশেষায়িত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে বড় ভূমিকা নেয়।
তবে প্রতিবেদনে বলছে, এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গত বছর ‘এনহ্যান্সড সাপ্লিমেন্টারি লেভারেজ রেশিও’ বা এসএলআর নীতিতে শিথিলতা আনে। এ নীতি অনুযায়ী বড় ব্যাংকগুলোকে মোট সম্পদের বিপরীতে কত মূলধন রাখতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। নতুন পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর মূলধন ধরে রাখার চাপ কিছুটা কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বড় ব্যাংকগুলোকে আবার ট্রেজারি বাজারে সক্রিয় হতে উৎসাহ দিচ্ছে। সঙ্গে নিয়ন্ত্রকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।
এসএলআর নীতিতে পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফেডের গভর্নর মিশেল বোম্যান। তিনি মনে করেন, ২০০৮ সালের পর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ করলেও কিছু কম ঝুঁকির কার্যক্রম সীমিত করেছে। এতে ট্রেজারি বাজার আরো নাজুক হয়ে পড়ে। বোম্যানকে গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়োগ দেন।
ব্যাংক অব আমেরিকার সুদহার কৌশল বিভাগের প্রধান মার্ক ক্যাবানা বলেন, শুরুতে তারা সন্দিহান ছিলেন এ পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর আচরণে বড় প্রভাব ফেলবে কিনা। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এসএলআর শিথিল হওয়ার পর ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বন্ড ধারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মরগান স্ট্যানলিও জানায়, নতুন নীতির কারণে তারা ট্রেজারি বন্ড লেনদেনে আরো বেশি মূলধন ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০০৮ সালের আগে ট্রেজারি বাজারে বড় ব্যাংকগুলোর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সংকটের পর হেজ ফান্ড ও দ্রুতগতির ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ভূমিকা নিতে শুরু করে। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি ও কর কমানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। বর্তমানে তা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি ঋণপত্র বাজারে ছাড়তে হচ্ছে।