-
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1728744690.jpg[/IMG]
ওয়াল স্ট্রিট নিয়ন্ত্রক সংস্থার জনবল কমেছে ১৮%
বড় ধরনের জনবল সংকটের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গৃহীত কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় সংকোচন ও কর্মী ছাঁটাই নীতির ফলে গত সেপ্টেম্বর নাগাদ সংস্থাটির প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। গত শুক্রবার দেশটির সরকারি তদারকি সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিট অফিসের (জিএও) প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের নির্দেশে নেয়া ব্যাপক ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় এসইসির বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজার তদারকি বিভাগগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জিএওর আর্থিক বাজার ও কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের প্রধান মাইকেল ক্লেমেন্টস জানান, জনবল কমে যাওয়ায় এসইসিতে কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক অভিজ্ঞ কর্মী চলে যাওয়ায় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও দক্ষতা হারাচ্ছে বলেও কর্মীরা অভিযোগ করেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য দপ্তরে গড়ে ১২ শতাংশ জনবল কমলেও এসইসির ক্ষেত্রে এ হার অনেক বেশি।
রয়টার্সের গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে নাগাদ এসইসির প্রায় ৬০০ কর্মী (মোট জনবলের ১২ শতাংশ) স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ নেন। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরো ২৭০ জন কর্মী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বা পদত্যাগের মাধ্যমে সংস্থাটি ত্যাগ করেন। ফলে ২০২৫ অর্থবছর শেষে মোট জনবল হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। তবে এসইসির একজন মুখপাত্র শুক্রবার দাবি করেন, সংস্থাটির কাছে পর্যাপ্ত জনবল ও সম্পদ রয়েছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিনস যথাসময়ে প্রয়োজনীয় নিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। সংস্থাটির মতে, অভিজ্ঞদের চলে যাওয়া নতুন মেধাবী কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, যারা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
অন্যদিকে সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন গণহারে কর্মী কমে যাওয়ায় বাজার তদারকি এবং যেকোনো আর্থিক সংকট মোকাবেলায় এসইসির সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
-
মার্কিন স্টক মার্কেটের আপডেট, ৩১ ,মার্চ: ট্রাম্প ইরানের সাথে সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়ায় S&P 500 ও নাসডাক সূচক পুনরুদ্ধার করেছে
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/761533205.jpg[/IMG]
গতকাল মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.39% হ্রাস পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 0.73% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ 0.11% বৃদ্ধি পেয়েছে। সকালে স্টক মার্কেটের পরিস্থিতি লক্ষ্যণীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়: প্রি-ট্রেডিং সেশনে ইকুইটি সূচকের ফিউচার্সের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তেলের দরপতন হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তাঁর সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যের কারণে স্টক মার্কেটের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। ওই মন্তব্যে তিনি হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মার্কেটের ট্রেডাররা এই বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী হয়ে তেল সরবরাহ ব্যাঘাতের আশঙ্কা জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি মূল কারণ। তেলের দরপতন মানে বর্তমানে ঝুঁকি কমছে—এটি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনার কারণে ঘটেছে।একই সঙ্গে, সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার হ্রাস পেলে ইকুইটি মার্কেট ইতিবাচক সাড়া দেয়। বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশংকা হ্রাসের মধ্যে ঝুঁকি গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছে, যা প্রধান স্টক সূচকগুলোর ফিউচারের দর ঊর্ধ্বমুখী করছে। S&P 500 সূচকের ফিউচার্সের দর 0.8% বেড়েছে, এবং ইউরোপীয় ইকুইটি ফিউচার্সের 0.3% বেড়েছে। তবে এশিয়ার স্টক মার্কেটে সামান্য পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে: MSCI এশিয়া প্যাসিফিক সূচক 1% হ্রাস পেয়েছে এবং অক্টোবর 2008-এর পর থেকে এর সবচেয়ে খারাপ মাসিক রেকর্ডের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েড তেলের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $103-এ অবস্থান করছে। এর আগে এই তেলের দর প্রায় $107 প্রতি ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ট্রেজারি বন্ডগুলোর দর ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, এবং মার্কিন ডলার অধিকাংশ G10-ভুক্ত কারেন্সির বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের সমাপ্তি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে এবং পুনরায় হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে সরবরাহের ব্যাঘাত তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ পুনরায় বৃদ্ধি পেলে তা ভারত ও চীনসহ এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশগুলোকে উপকৃত করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি সম্পর্কে আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করবে।তবে উল্লেখ্য যে গত এক মাসে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রেক্ষিতে প্রকাশ্যে বিভিন্ন রকম ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন—যা সামগ্রিক যুদ্ধের ওপর মিশ্র লক্ষ্য ও বার্তার একটি অংশ। কখনো তিনি নির্দিষ্ট সময়ে চ্যানেল খুলে না দেয়া হলে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন; আবার তিনি চ্যানেলটির গুরুত্ব আপেক্ষিকভাবে কম বলে বর্ণনা করেছেন, জানিয়েছে যে এই প্রণালী বন্ধ থাকার বিষয়টি অন্যান্য দেশগুলোর সমস্যা।
[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1303279497.jpg[/IMG]
S&P 500-র টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের আজ প্রধান কাজ হবে সূচকটির নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল $6,385 অতিক্রম করানো। এর ফলে সূচকটির দর আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং $6,394-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। ক্রেতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে সূচকটির দর $6,403-এর উপরে ধরে রাখা, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলে সূচকটির দর $6,373-এর আশপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে দ্রুত ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টটির দর $6,364-এ নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $6,355 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।
Read more: https://www.instaforex.com/bd/forex_analysis/442044