নতুন টয়োটা হ্যারিয়ার। জাপানের মোস্ট প্রিমিয়াম SUV। দাম: ১ কোটি +
হ্যারিয়ার আমাদের দেশে চলছে অনেক আগে থেকেই, বাংলাদেশে ওই সেগমেন্টে সবচেয়ে প্রিমিয়াম এসইউভি ছিলো হ্যারিয়ার। নতুন হ্যারিয়ার এসেছে এখন, আগের থেকেও অনেক প্রিমিয়াম আর গর্জিয়াছ লুক নিয়ে। টয়োটা এটাকে বলে প্রিমিয়াম আরবান এসইউভি। যেটা আপনার ডেইলি লাইফে আলাদা একটা ক্লাস এড করে। জাপানে হ্যারিয়ার তার সেগমেন্টে একটা বেঞ্চমার্ক, অন্য কোন এসইউভি হ্যারিয়ারের মতো প্রিমিয়ামনেস আর লুক অফার করতে পারেনা। নতুন হ্যারিয়ার কিন্তু কমপ্লিটলি মডেল চেঞ্জ। ডিজাইন, ইন্টেরিয়র, ইঞ্জিন সবই নতুন। সাইজেও আগের থেকে বড় হয়েছে।
ডিজাইন: নতুন হ্যারিয়ারের ডিজাইন আগের থেকে মাচ মাচ প্রিমিয়াম। ফোলানো বনেট, খুব শার্প হেডলাইট, L শেপ DRL সহ, ব্ল্যাক ফিনিশ বড় একটা গ্রিল, নিচে ক্রোম লাইনসহ আলাদা একটা রোড প্রসেন্স দিবে কোন সন্দেহ নেই। শুধু সামনেই না পেছনেও বিশাল চেঞ্জ এসে গেছে। আগের সেই বড় বড় লাইট গন, তারবদলে পোর্শের মতো নতুন স্লিক ফুল লাইন LED টেইললাইট। ছবিতে (Carhouse Captured) দেখতেই পাচ্ছেন কি সুন্দর লাগছে টেইললাইটগুলো, স্পেশালি রাতে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো! কালো একটা স্পয়লারও আছে যেটা গাড়ির স্পোর্টিনেস আরো বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও নিচে কোয়াড এক্সস্ট আছে! যদিও সবগুলো অরজিনাল না বাট দেখতে স্পোর্টিই লাগে বেশ। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স 195mm সো আমাদের রাস্তায় চালাতে প্রবলেম তেমন একটা হবেনা।
ইন্টেরিয়র: সবচেয়ে বড় কাজটা হয়েছে এখানেই। ইন্টেরিয়রে বসে আপনার মনে হবে আপনি একটা লেক্সাসে বসে আছেন। ঢুকলেই দেখবেন প্রচুর প্রিমিয়াম লেদার ইউজ করা হয়েছে সব জায়গায়। ড্যাশবোর্ড, আর্মরেস্ট, ডোর প্যাড সবজায়গায় লেদার দিয়ে মোড়ানো। এছাড়াও ড্যাশবোর্ডের ডাবল লেয়ার ফিনিশ, এসি ভেন্টস প্লেসমেন্ট, বিশাল ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লেসহ সবমিলিয়ে প্রচুর প্রিমিয়াম ফিল দিবে। সিটগুলোও হেভী কমফোর্টেবল, এই সেগমেন্টে হ্যারিয়ারের থেকে ভালো সিট অন্য কোন এসইউভিতে পাবেন না, এতই কম্ফোর্টোবল। সিটগুলো পাওয়ার এ্যাডজাস্টেবল, এছাড়াও হিটিং এবং কুলিং দুটোই আছে। আগেই বলেছি নতুন হ্যারিয়ার সাইজে বড় হয়েছে, সো যে কোন সাইজের লোকই আরামে বসতে পারবে। আরেকটা জায়গা আপনাদের সবারই ভালো লাগবে আমি বেট করে বলতে পারব! সেটা হলো ড্যাশবোর্ডের মাঝে বিশাল ইনফোমেট্রিকস ডিসপ্লেটা। সেটার নিচে এসির কন্ট্রোল, তারপাশে লেদারে মোডা দুইটা কার্ভ লাইন যেগুলো সোজা উপরের দিকে উঠেছে, সেগুলোর উপরে আবার সুন্দর ক্রোম বিট দেওয়া। এই জায়গাটা যে কারো ভালো লেগে যাবে। এছাড়াও ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লেটা 8inch অথবা 12inch সাইজে আসবে। Apple Carplay/Android Auto দুইটাই থাকবে, সো আর কিছু লাগবেনা। সাথে JBL এর প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেমও আসবে! নতুন হ্যারিয়ারের আরেকটা স্পেশাল ফিচার হচ্ছে এর সাইড মিরর দিয়ে রাস্তার ভিডিও রেকর্ড করা যায়! এই ফিচারটা প্রথম কোন টয়োটোয় ইউজ করা হয়েছে। আরো একটা খুবই স্পোশাল ফিচার আছে, সেটা হলো ফ্রস্টেড সানরুফ। মানে গ্লাসে বরফ রাখলে যেমন গ্লাস ঘোলা হয়ে যায়, তেমন করে ফেলতে পারবেন রোদের সময় সানরুফটাকে। এইসব ছোট ছোট প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য জাপানেও হ্যারিয়ার প্রচুর সেল হচ্ছে।
ড্রাইভিং: আগের ইঞ্জিন বাদ, এবার এসেছে পুরোপুরি নতুন ইঞ্জিন। 2000cc পেট্রোল অথবা 2500cc হাইব্রিড দুইটা অপশনে আসবে। টয়োটাকে থ্যাংকস দিতে হয় ছোট ইঞ্জিন ইউজ না করার জন্য, কারন এত হেভী একটা গাড়িতে ছোট ইঞ্জিন ইউজ করলে একচুয়্যাল ড্রাইভিং প্লেজারটা পাওয়া যায় না, মাজদা যেরকম করে। 2000cc ইঞ্জিন থেকে 169hp এবং 2500cc ইঞ্জিন থেকে কম্বাইনড 219hp। সিটিতে এবং হাইওয়েতে ক্রুজ করার জন্য এই পাওয়ার মোর দেন এনাফ। তাছাড়া ট্রান্সমিশন হিসেবে থাকছে E-cvt বা ডাইরেক্ট শিফট CVT, আগের কনভেনশনাল এলিয়ন প্রিমিওর মতো CVT না এগুলো, সো ভালোই এক্সেলেরেশন পাবেন। আর যদি 210hp ইলেকট্রিক মোটরসহ E-cvt হয় তাহলে যে টানবে অস্থির তাতে কোন সন্দেহ নেই। আসলে হ্যারিয়ার হচ্ছে অল এ্যাবাউট কমফোর্ট এবং লাক্সারি। হেভি প্রিমিয়াম লেদার সিটে বসে CVT এর কন্টনিউয়াস স্মুথ পাওয়ার ডেলিভারি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চালাতে থাকবেন, বিলিভ মি আপনি টানা ৭-৮ ঘন্টা চালালেও আপনার একটুও বিরক্তি বা ডিসকমফোর্ট ফিল হবেনা।
সেফটি: সেফটিতে হ্যারিয়ার পুরো এক বস্তা সেফটি ফিচারস নিয়ে বসে আছে! টোটাল ৮ টা এয়ারব্যাগ যা খুব কমই দেখা যায়। এছাড়া সিটি ব্রেক আছে যেটা আগের থেকেও উন্নত, এখন সাইক্লিস্ট ডিটেক্ট করতে পারে। এড্যাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল আছে উইথ হাই স্পীড এন্ড লো-স্পীড ফলো, লেইন কিপিং এ্যাসিস্ট আছে সেল্ফ স্টিয়ার সহ, রেয়ার ক্রস ট্রাফিক এ্যালার্ট আছে উইথ সেল্ফ ব্রেক, 360° ক্যামেরা আছে, ব্রেক হোল্ড আর ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক তো আছেই। এতসব সেফটি ফিচারস নিয়ে মোটামুটি নতুন হ্যারিয়ারকে সেমি-অটোনম্যাস গাড়ি বলা যায়।
নতুন এই হ্যারিয়ারের টোটাল 5 টা গ্রেডে আসবে, S, G, G Leather Selection, Z, Z Leather Selection
এর মধ্যে S একেবারে লো গ্রেড। S এর ইন্টেরিয়র এবং এক্সটেরিয়র কিছু জায়গাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে S গ্রেড অনেক কম দামে পাওয়া যাবে অনন্যা গুলো থেকে।
G আর Z হচ্ছে পরের দুই গ্রেড। এদের মাঝে এক্সটেরিয়র এ খুব একটা ডিফারেন্স নাই। এক্সটেরিয়র দুইটার দেখতে মোটামুটি একই। ডিফারেন্স আছে টায়ার সাইজে, G তে 18 ইঞ্চি রিম আর Z -এ 19 ইঞ্চি রিম। এছাড়াও স্কাফ প্লেট, পেছনের স্পয়লারে ডিফারেন্স আছে। আরেকটা বিগ ডিফারেন্স আছে মাঝখানের ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লেতে। G তে পাবেন ৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে আর Z এ পাবেন বিশাল 12 ইঞ্চির ডিসপ্লে। আর তেমন কিছু ডিফারেন্স নাই।
আর মাঝখানের Leather Selection প্যাকেজগুলো মূলত স্পেশাল প্রিমিয়াম লেদার সিট থাকবে উইথ হ্যারিয়ার লেগো।
কন্স: নতুন হ্যারিয়ারেন কন্স বা খারাপ দিক বলতে গেলে বলতে হয় এটার বুট স্পেস কিছুটা কম। আরেকটা ব্যাপার এসি কন্ট্রোল, মিউজিক কন্ট্রোলে বাটন নেই, সবই টাচ সেনসিটিভ। সো চালতে গেলে আপনার রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে ওদিকে কিছুটা মনোযোগ দিতে হবে। এগুলো ছাড়া নতুন হ্যারিয়ারের খুঁত বের করা কঠিন।