Name: 180656801_267141941775675_2845323643597069751_n.jpg Views: 1 Size: 521.3 কিলোবাইট
এসইউভিসিয়াট হচ্ছে স্পেনের সবচেয়ে সফল গাড়ি-নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। সিয়াটের ইন্ডিপেনডেন্ট হাই-পার্ফরম্যান্স সাব-ব্র্যান্ড হচ্ছে কুপ্রা। কুপ্রা সাব-ব্র্যান্ডের আন্ডারে সাধারণত সিয়াটের গাড়িগুলোর স্পোর্টস ভ্যারিয়েন্ট বের করা হয়, যেমন সিয়াট অ্যাটেকা গাড়িটির শক্তি ১১৫ হর্সপাওয়ার, কিন্তু কুপ্রা অ্যাটেকা-এর শক্তি ৩০০ হর্সপাওয়ার! এখন, ২০২০ সালে সিয়াট এমন একটি মডেল বের করে, যেটা সিয়াটের আন্ডারে বের হবে না, এই মডেলটি হবে শুধুই কুপ্রা-এর ইউনিক মডেল হিসেবে। সেই মডেলটিই হলো আজকের স্টার অফ দ্যা শো -> দ্যা ফরমেন্টর!দৈর্ঘ্যে এই গাড়িটি টয়োটা করোলা ক্রসের সমান, ও উচ্চতায় এমনকি আমাদের সদ্য শেষ হওয়া সি-সেগমেন্ট এসইউভির সিরিজের সবচেয়ে নিচু গাড়ি মাজদা সিএক্স-৩০ এর চেয়েও ১ ইঞ্চি কম। এখন, একটা স্পোর্টসকার তো নিচু হবেই স্বাভাবিকভাবে, তাই এই গাড়িটিও ব্যাতিক্রম নয়। গাড়িটার চেহারা সিয়াটের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত গাড়ি সিয়াট লিওন হ্যাচব্যাকের হুবহু এক, শুধু লিওন হচ্ছে একটা হ্যাচব্যাক, কুপ্রা ফরমেন্টর একটা ক্রসওভার এসইউভি। আর লিওনের সুন্দর ডিজাইনটাকে কপি করার ফলাফল যে কতটা ভালো হয়েছে তা আপনারা ছবিতেই দেখতে পাচ্ছেন। গাড়িটার দিকে তাকালে ডিজাইন নিয়ে কি বলবো বুঝতে পারি না, প্রশংসা করার ভাষা হারিয়ে ফেলি আসলে। নিচু ও ওয়াইড বডি, যেটা একটা স্পোর্টস-এসইউভিতে থাকবে এটাই স্বাভাবিক, তার উপর আবার অসম্ভব সুন্দর হেডলাইট ও টেইললাইট, সামনে কুপ্রার লোগো যেটা আমাদের চোখে দুনিয়ার অন্যতম সুন্দর লোগো, প্রচন্ড সুন্দর রিমস, এবং খুবই স্ট্রং একটা শোল্ডার বডি-লাইন। সৌন্দর্যের যদি কোনো সংজ্ঞা থাকে, এই গাড়িটি হয়তো সেই সংজ্ঞা।ইন্টেরিওর ি নিঃসন্দেহে একটা স্পোর্টস-এসইউভির মতোই। কালো ইন্টেরিওর, কুপ্রার লোগোর শেডের ব্রোঞ্জ কালারের সুতা দিয়ে করা সেলাই, একই রঙে এসি ভেন্টের ফ্রেম ইত্যাদি সবকিছু মিলে এই গাড়িটির ইন্টেরিওরকে করেছে অনেক প্রিমিয়াম এবং স্পোর্টি। যাত্রীদের কমফোর্টের জন্যেও কম ফিচার দেয়নি তারা, সানরুফ থেকে শুরু করে ২য় সারির এসি ভেন্টস সবকিছু আছে এই গাড়িটিতে। কমফোর্ট মোডে যেমন আরামদায়ক সাস্পেনশন, স্পোর্টস মোডে তেমনই স্টিফ। ভিতরে লম্বা যাত্রীদের বসার মতো যথেষ্ট জায়গা আছে। সব মিলিয়ে ফ্যামিলি ইউজেও গাড়িটি অনেক ভালো।এবার আসি গাড়ির পাওয়ারট্রেইনে। কুপ্রা ফরমেন্টর গাড়িটি বাংলাদেশের কেউ আনতে চাইলে যেহেতু ব্রিটেন থেকে আনতে হবে, তাই ব্রিটিশ মার্কেটে অ্যাভাইলেবল পাওয়ারট্রেইনগুলো এখানে বলবো। ফরমেন্টরের সবচেয়ে বেজ ট্রিমে আছে একটি ১৫০০ সিসির ৪ সিলিন্ডারের টার্বো ইঞ্জিন, যার শক্তি ১৫০ হর্সপাওয়ার। যাদের শুধু গাড়িটার লুক লাগে, তারা এই ট্রিমটি নেন। এই ট্রিমের পরে আছে ই-হাইব্রিড ট্রিম, যেটাতে আছে ১৪০০ সিসির ৪ সিলিন্ডার টার্বো ইঞ্জিন এবং প্লাগ-ইন-হাইব্রিড ইলেকট্রিক মোটর, যার শক্তি ভি-১ ট্রিমে ২০৫ হর্সপাওয়ার এবং ভিজেড-১ ট্রিমে ২৫০ হর্সপাওয়ার। এরপর থেকে শুরু পার্ফরম্যান্স-ফোকাসড ট্রিম, যার নাম “VZ” অর্থাৎ ভেলোজ, যেটা স্প্যানিশ ভাষায় বুঝায় ‘গতি’। ভিজেড-৩ ট্রিমে আছে ২০০০ সিসির ৪ সিলিন্ডারের টার্বো ইঞ্জিন, যার শক্তি ৩১০ হর্সপাওয়ার, যা হোন্ডা সিভিক টাইপ-আর, সুবারু এসটিআই এবং মিতসুবিশি ইভো টেনের সমান শক্তি!! সামনে আসতে চলেছে ভিজেড-৫ ট্রিম, যেটিতে থাকবে অডি টিটি স্পোর্টসকার থেকে নেওয়া ২৫০০ সিসির পাঁচ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন, যেটার শক্তি হবে ৩৮৫ হর্সপাওয়ার!! জার্মানির বিখ্যাত অডি-টিউনার Abt Sportsline এই গাড়ির ভিজেড-৩ ট্রিমের ৩১০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিনটি টিউন করে ৩৬৫ হর্সপাওয়ার করে দিচ্ছে। মজার ব্যাপার, আমাদের ঢাকার অডি ডিলারশিপে কিন্তু অ্যাবট স্পোর্টসলাইনের একটা অফিশিয়াল শাখা আছে।পোস্টের শেষে আসি দামে। ১৫০০ সিসির ফরমেন্টরের দাম বাংলাদেশের সকল ট্যাক্সসহ ৮০ লাখ টাকা। এরপর আসে ১৪০০ সিসি প্লাগ-ইন-হাইব্রিড, যেটার ২০৫ হর্সপাওয়ারের দাম ৮২ লাখ টাকা, এবং ২৪৫ হর্সপাওয়ারের দাম ৯০ লাখ টাকা। এবার পালা ২০০০ সিসি ৩১০ হর্সপাওয়ারের, যেটার দাম দেড় কোটি টাকা!! সর্বশেষ হলো সবচেয়ে ফাস্টেস্ট ট্রিম, ২৫০০ সিসির ৩৮৫ হর্সপাওয়ারের এই ট্রিমের দাম ২.৮৫ কোটি টাকা!!! ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে যে, বাংলাদেশের একটা ফরমেন্টর ঢুকবে কিছুদিনের মধ্যে, কিন্তু কোন ট্রিম ও কোন ইঞ্জিন এটা জানা যায়নি।