Name: 242266292_1324691474612567_2173818190568520098_n.jpg Views: 10 Size: 84.2 KB
২০১১ সালে একটি প্রাইভেট পলিটেকনিক্যালে ভর্তি হলাম কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা ইঞ্জিঃ করার উদ্দেশ্যে, তখন পর্যন্ত আমার নিজের কোন কম্পিউটার ছিল না, তো কয়েকটা দিন ক্লাস করার পরেই বাসায় ফোন দিয়ে মিথ্যা কথাই বললাম (আব্বা) কম্পিউটার কিনতে হবে তাছাড়া ক্লাস করতে দিবে না, তার কিছুদিন পরে কম্পিউটার কিনে দিলেন।
মিশন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
এরপর অনেকর কাছে শুনলাম কম্পিউটার দিয়ে টাকা ইনকামের কথা, কিছুদিন পরে এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো তিনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করত তো আর কি চোখ বন্ধ করে শুরু করে দিলাম সাথে রাসেল ভাইয়ের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর ভিডিও টিউটোরিয়াল কিনলাম ৳৩০০০ টাকা দিয়ে, সে সময় ৳৩০০০ টাকা নেহাতই কম ছিল না আমার কাছে টাকাগুলো জমিয়েছিলাম ফেক ফেসবুক একাউন্ট সেল করে যদিও তখন এটাকে মনে করতাম ফ্রিল্যান্সিং।
টিউটোরিয়াল দেখে কোন রকম কিছু কাজ শিখে আপওয়ার্ক এ একাউন্ট করলাম কিন্তু তখন আমার কাজের দক্ষতা এবং ইংরেজির দক্ষতা কোনটাই তেমন ছিল না, কিছুদিন চেষ্টা করার পর ধৈর্য হারিয়ে ফেললাম কাজ না পাওয়ার জন্য, মনে করলাম আমাকে দিয়ে হয়তোবা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট হবে না।
মিশন গ্রাফিক্স ডিজাইন
বেশ কিছুদিন পর গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখা শুরু করলাম এতেও রেজাল্ট আগের মতই এমনকি কিছু ডিজাইন এনভাটো মার্কেটে দিলাম কিন্তু একটি ও এপ্রুভ হলো না। মনে মনে চিন্তা করলাম ফ্রিল্যান্সিং আমাকে দিয়ে সম্ভব না।
মিশন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট
এরই মধ্যে ডিপ্লোমা শেষ করে ঢাকায় এসে বি.এস.সি তে ভর্তি হলাম, মাথায় একগাদা টেনশন কিছু একটা করতে হবে হয় জব করতে হবে না হয় কিছু একটা করতে হবে, কিছুদিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটা ইন্টারভিউ দিলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হল না। তারপর আমার পলিটেকনিক ফ্রেন্ড সবুর এর সাথে কথা হল বলে রাখা ভালো সে ডিপ্লোমা থেকেই এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে, তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সে এখন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করে গুগল প্লে স্টোরে আপলোড করে সেখান থেকে অ্যাডভার্টাইজমেন টস এর মাধ্যমে প্রত্যেক মাসে ভালো ইনকাম আসে (১০,০০০- ১২,০০০ টাকা) সেদিন থেকে আমিও শেখা শুরু করেদিলাম এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট, চিন্তা করলাম সে পারলে আমি কেন পারব না। এরপর থেকে একই ভাবে আমারো প্রত্যেক মাসে ভালো একটি এমাউন্ট আসতে থাকলো, কিন্তু এরপর একদিন আমার এক বন্ধু আমাকে এডসেন্স ইনকাম কি হারাম না হালাল এই বিষয়ে একটি আলেমের ভিডিও দেখানোর পড়ে বেশ কিছুদিন এটা নিয়ে রিসার্চ করার পর মনে হল এটা নিয়ে কাজ করা ঠিক হবে না।
মিশন ফাইবার
ফাইনালি মনে হলো ফাইবারে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করব, আজ থেকে এক বছর আগে ফাইবারে জয়েন করেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া ফাইবারের জয়েন করে প্রথম মাসেই আসে $১৭২ ইউএসডি এবং এর পরের মাসে হয় $২৯৬ আলহামদুলিল্লাহ এরপর আর পিছনে ফিরতে হয়নি।
সঠিক মনে নেই এরপরে দুই অথবা তিন মাস পর একটি আমেরিকান ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়
সে আমাকে বলল তার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এ কিছু প্রবলেম আছে সেগুলো সলভ করতে হবে আমি বললাম তাকে ঠিক আছে তোমার অ্যাপের সোর্স ফাইল টা আমাকে দাও, কিন্তু আমি অ্যাপের সোর্স কোডের মধ্যে কোন প্রবলেম খুঁজে পেলামনা বিধায় তাকে জানালাম, এরপর সে আমাকে বলল তার একজন এন্ড্রোয়েড ডেভলপার আছে কিন্তু সে তাকে দুই থেকে তিন মাস ধরে বলছে অ্যাপের সোর্স কোডে কিছু প্রবলেম আছে এমনকি সে আমার সাথে তার ফাইবার প্রোফাইল লিংক শেয়ার করে, আমি তার ফাইবার প্রোফাইলে ভিজিট করে দেখি সে একজন পাকিস্তানী ডেভেলপার (লেভেল ২) এন্ড অনেকগুলো কাজ জমা হয়ে আছে তার গিগে। আমি তাকে বলি যেহেতু কোন প্রবলেম নাই তার ডেভেলপার করতে পারবে, কিন্তু সে বলল i need you এরপর সে প্রজেক্টটা আমি কমপ্লিট করে প্লে স্টোর সাবমিট করি।
এরপর ভদ্রলোকের সাথে অনেক কথা হয় এবং সে তার লাইফ হিস্টরি বলতে থাকে আমি ও শুনতে থাকি এরপর জানতে পাড়ি সে একটি কোম্পানির সি ই ও আলহামদুলিল্লাহ এরপর সেই কম্পানিতে জুনিয়র ডেভেলপার হিসাবে মান্থলি বেসড স্যালারিতে অফার দেন। এরপর থেকে আলহামদুলিল্লাহ এখন পর্যন্ত সেখানে এবং পাশাপাশি ফাইবারে কাজ করছি।
নতুনদের জন্য কিছু কথা
১. সবসময় সৎ থাকার চেষ্টা করুন ইনশাল্লাহ একটি ভাল প্রতিদান পাবেন।
২. নতুন স্কিল ডেভেলপ করার চেষ্টা করুন।
৩. গিগ প্রাইস একটু বেশি রাখার চেষ্টা করুন এতে করে আপনি খারাপ ও ছেচরা ক্লাইন্ট এর হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে আশা করছি।
৪. ইউনিক গিগ করার চেষ্টা করুন।
৫. সম্পূর্ণরূপে ফাইবার নির্ভর না হওয়া।
৬. ক্লায়েন্টকে কনভিন্স করার চেষ্টা করুন, আমি যেটা করি যদি মনে হয় কোন ক্লায়েন্ট আমার কাজে সন্তুষ্ট নয় তখন আমি তাকে আরেকটি অফার দিয়ে রাখি ফ্রি কিছু কাজ করে দেওয়ার জন্য তবে সাবধান।
এতক্ষণ কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আমি জানি আমার বাংলা খুবই খুবই জঘন্য দুঃখিত এরচেয়ে ভালো করে লিখতে পারবো না মনে হয়।