জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক অন্তত ৬৬টি সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসন, উন্নয়ন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ-সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক কর্মসূচি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল। সেই সহায়তা বন্ধ করে দিলে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জলবায়ু অভিযোজন-সংক্রান্ত বহু প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে সংঘাতপ্রবণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোয় মানবিক সহায়তার ঘাটতি বাড়তে পারে, যা দারিদ্র্য ও বৈষম্য আরো গভীর করার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল। যেসব সংস্থা থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি স্মারকে বুধবার সেগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্মারকে জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি এবং জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থার নাম রয়েছে।’
যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে তার অন্যতম হলো জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। ইউএনএফপিএ ১৫০টির বেশি দেশে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছরই ইউএনএফপিএর তহবিল অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনও (ইউএনএফসিসিসি) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ সংস্থাকে ২০১৫ সালে হওয়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত্তি হিসেবে মনে করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএন উইমেন’ থেকেও বের হয়ে যাবে। জাতিসংঘের এ সংস্থা লিঙ্গসমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে।
জাতিসংঘ সংস্থাগুলো থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার অর্থ হলো আইন অনুযায়ী ও সংস্থাগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বা অর্থায়ন বন্ধ করা। ট্রাম্প জাতিসংঘের যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোর অধিকাংশের জন্য তহবিল বরাদ্দ আগেই অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ও ইউনেস্কোর মতো সংস্থার প্রতি সমর্থন আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। এবার আরো বিস্তৃত পরিসরে সংস্থা ও কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আর সামগ্রিক দায়বদ্ধতার বিষয় হিসেবে দেখছে না, বরং নিজেদের জাতীয় এজেন্ডার সঙ্গে মিল থাকলে তবেই অংশগ্রহণ করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘবিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল ফোর্টির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিকতার ধারণা এখন কার্যত ‘মাই ওয়ে অর দ্য হাইওয়ে’। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা হবে ওয়াশিংটনের শর্তে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে না। এ অবস্থান আগের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় প্রশাসনের নীতির তুলনায় বড় ধরনের বিচ্যুতি। এর ফল হিসেবে জাতিসংঘ এরই মধ্যে নিজেদের ভেতরে পুনর্গঠনে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে কর্মী ছাঁটাই ও কর্মসূচি সংকোচনের মতো সিদ্ধান্ত সামনে আসছে।
এ সিদ্ধান্তের একটি সরাসরি প্রভাব পড়বে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কমানো এবং ইউএসএইডের বাজেট সংকোচনের ফলে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করা বহু স্বাধীন এনজিও তাদের প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও শান্তি নির্মাণের মতো খাতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেই দেশ ও অঞ্চলগুলো, যেগুলো আগে থেকেই সংঘাত, দারিদ্র্য বা জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
জলবায়ু ইস্যুতে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব আরো গভীর। ইউএনএফসিসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। ১৯৯২ সালের এ চুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আর্থিক সহায়তা দেয়ার ভিত্তি তৈরি করেছিল। এর ওপর দাঁড়িয়েই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গড়ে ওঠে। হোয়াইট হাউজের সাবেক জলবায়ু উপদেষ্টা জিনা ম্যাকার্থি এ সিদ্ধান্তকে বিব্রতকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে এ চুক্তির বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক। এতে দেশটি ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, নীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে, যা অর্থনীতি এগিয়ে নেয়া ও ব্যয়বহুল দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারত।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো অন্য দেশগুলোকেও নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে দেয়ার সুযোগ করে দেবে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী ও গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্টের চেয়ারম্যান রব জ্যাকসনের মতে, এটি অন্য দেশগুলোর জন্য একটি অজুহাত তৈরি করবে। বিশ্বের অন্যতম বড় নিঃসরণকারী ও অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে জলবায়ুতে অর্থপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ বন্যা, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়ছে, যার কারণে অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেল শিল্পের স্বার্থে বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি ও পরিষ্কার জ্বালানি অবকাঠামো দুর্বল করছে, যার ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ।
জাতিসংঘের যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স, ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল—ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল—ইকোনমিক কমিশন ফর লাতিন আমেরিকা অ্যান্ড দ্য ক্যারিবিয়ান, ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল—ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক, ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল—ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর ওয়েস্টার্ন এশিয়া, ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসিডুয়াল মেকানিজম ফর ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনালস, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, অফিস অব দ্য স্পেশাল অ্যাডভাইজার অন আফ্রিকা, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি জেনারেল ফর চিলড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি জেনারেল অন সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি জেনারেল অন ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট চিলড্রেন, পিসবিল্ডিং কমিশন, পিসবিল্ডিং ফান্ড, পার্মানেন্ট ফোরাম অন পিপল অব আফ্রিকান ডিসেন্ট, ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, ইউএন কোলাবরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস ফ্রম ডিফরেস্টেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রাডেশন ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন এনটিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন, ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, ইউএন ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ, ইউএন ওশানস, ইউএন রেজিস্টার অব কনভেনশনাল আর্মস, ইউএন সিস্টেম চিফ এক্সিকিউটিভস বোর্ড ফর কোঅর্ডিনেশন, ইউএন সিস্টেম স্টাফ কলেজ, ইউএন ওয়াটার, ইউএন ইউনিভার্সিটি।
জাতিসংঘের বাইরে যেসব সংস্থা ও জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো: টোয়েন্টি ফোর/সেভেন কার্বন-ফ্রি এনার্জি কমপ্যাক্ট, কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল, কমিশন ফর এনভায়রনমেন্টাল কো-অপারেশন, এডুকেশন ক্যানট ওয়েট, ইউরোপিয়ান সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর কাউন্টারিং হাইব্রিড থ্রেটস, ফোরাম অব ইউরোপিয়ান ন্যাশনাল হাইওয়ে রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, ফ্রিডম অনলাইন কোয়ালিশন, গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফান্ড, গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরাম, গ্লোবাল ফোরাম অন সাইবার এক্সপার্টিজ, গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইন্টার-আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চ, ইন্টারগভর্নমেন্ট ল ফোরাম অন মাইনিং, মিনারেলস, মেটালস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারগভর্নমেন্ট ল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, ইন্টারগভর্নমেন্ট ল সায়েন্স-পলিসি প্লাটফর্ম অন বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব দ্য প্রিজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব কালচারাল প্রপার্টি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব আর্টস কাউন্সিলস অ্যান্ড কালচার এজেন্সিজ, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জাস্টিস অ্যান্ড দ্য রুল অব ল, ইন্টারন্যাশনাল লেড অ্যান্ড জিঙ্ক স্টাডি গ্রুপ, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিক্যাল টিম্বার অর্গানাইজেশন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার, প্যান আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব জিওগ্রাফি অ্যান্ড হিস্ট্রি, পার্টনারশিপ ফর আটলান্টিক কো-অপারেশন, রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া, রিজিওনাল কো-অপারেশন কাউন্সিল, রিনিউয়েবল এনার্জি পলিসি নেটওয়ার্ক ফর দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ইন ইউক্রেন, সেক্রেটারিয়েট অব দ্য প্যাসিফিক রিজিওনাল এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম, ভেনিস কমিশন অব দ্য কাউন্সিল অব ইউরোপ। খবর এপি।

Thread: 

