Eur/jpy নিয়ে নতুন করে ভাবলে একটা বিষয় এখন পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে—এই পেয়ারটা আগের মতো একমুখী মুভ না করে এখন অনেক বেশি “স্মার্ট মানি” স্টাইল মুভ করছে। মানে হঠাৎ ব্রেকআউট, তারপর আবার দ্রুত রিভার্স—এই ধরনের ফাঁদ অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই আগের মতো শুধু ট্রেন্ড দেখে বাই বা সেল দিলে অনেক সময় ভুল হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান মার্কেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লিকুইডিটি কোথায় আছে সেটা বোঝা। সাধারণভাবে আমরা জানি, মার্কেট সবসময় সেই জায়গায় যেতে চায় যেখানে বেশি স্টপ লস জমা থাকে। যেমন ধরেন, কোনো স্পষ্ট হাই বা লো আছে—অনেক ট্রেডার সেখানে স্টপ লস রাখে। তখন বড় প্লেয়াররা সেই লেভেলটা হিট করে মার্কেট ঘুরিয়ে দেয়।
eur/jpy এর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, প্রাইস অনেক সময় আগের হাই ব্রেক করে আবার নিচে নেমে আসে। এটাকে অনেকেই “ফেক ব্রেক” ভাবে, কিন্তু আসলে এটা লিকুইডিটি নেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এই জায়গাগুলো বুঝতে পারলে ট্রেড অনেক সহজ হয়ে যায়।
এখন যদি আপনি জানতে চান বাই করব না সেল করব, তাহলে একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হবে। সরাসরি বাই বা সেল না ভেবে দেখতে হবে—মার্কেট এখন কাকে ট্র্যাপ করছে।
যদি দেখেন প্রাইস বারবার নিচে নেমে সাপোর্ট ভাঙার চেষ্টা করছে কিন্তু ঠিকভাবে নিচে ধরে রাখতে পারছে না, তাহলে বুঝতে হবে সেলারদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে হঠাৎ একটা শক্তিশালী বুলিশ মুভ আসতে পারে। তখন বাই নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে যদি প্রাইস উপরে উঠে হাই ব্রেক করে কিন্তু সেখানে টিকতে না পারে, বারবার রিজেকশন দেয়, তাহলে বুঝতে হবে বায়ারদের ট্র্যাপ করা হচ্ছে। তখন সেল নেওয়ার সুযোগ বেশি ভালো হয়।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টাইমিং। অনেক ট্রেডার ঠিক দিক ধরলেও ভুল সময়ে এন্ট্রি নেয়। eur/jpy সাধারণত লন্ডন সেশন এবং নিউইয়র্ক সেশনে ভালো মুভ করে। এশিয়ান সেশনে অনেক সময় রেঞ্জ করে। তাই এশিয়ান সেশনে মাঝখান থেকে ট্রেড না নিয়ে, লন্ডন ওপেনের পর মার্কেটের দিক বুঝে এন্ট্রি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।
আরেকটা নতুন বিষয় যেটা এখন অনেক ট্রেডার ব্যবহার করছে, সেটা হলো “ব্রেক অ্যান্ড রিটেস্ট”। ধরেন প্রাইস একটা গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ব্রেক করলো। তখন সরাসরি এন্ট্রি না নিয়ে অপেক্ষা করা ভালো—প্রাইস যদি আবার সেই লেভেলে ফিরে এসে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স হিসেবে কাজ করে, তখন এন্ট্রি নিলে রিস্ক কম হয়।
এখানে একটা বাস্তব উদাহরণ চিন্তা করেন—প্রাইস যদি উপরের দিকে ব্রেক করে, তারপর আবার নিচে এসে সেই ব্রেক করা জায়গায় থামে এবং বুলিশ ক্যান্ডেল দেয়, তাহলে বাই অনেক বেশি নিরাপদ হয়। ঠিক উল্টোটা হলে সেল।
এখন অনেকেই শুধু ইন্ডিকেটরের উপর নির্ভর করে, কিন্তু বর্তমান মার্কেটে শুধু rsi বা macd দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বড় প্লেয়াররা অনেক সময় ইন্ডিকেটরকে ভুল সিগনাল দিতে বাধ্য করে। তাই প্রাইস অ্যাকশন, ক্যান্ডেল স্ট্রাকচার এবং মার্কেটের বিহেভিয়ার—এইগুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
আর একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে—ওভারট্রেডিং। eur/jpy একটু ভোলাটাইল পেয়ার, তাই এখানে বারবার এন্ট্রি নেওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুত ব্যালেন্স কমে যেতে পারে। দিনে এক বা দুইটা ভালো সেটআপ পেলেই যথেষ্ট।
সবশেষে যদি সহজভাবে বলি—এই মুহূর্তে ব্লাইন্ড বাই বা সেল না করে “ওয়েট অ্যান্ড রিঅ্যাক্ট” স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করা ভালো। মার্কেট কোথায় ফাঁদ তৈরি করছে সেটা আগে বুঝুন, তারপর এন্ট্রি নিন।
যদি প্রাইস নিচে ফাঁদ তৈরি করে, বাই চিন্তা করবেন। যদি উপরে ফাঁদ তৈরি করে, সেল চিন্তা করবেন। এই ছোট্ট লজিকটা ফলো করলেই eur/jpy তে অনেক অপ্রয়োজনীয় লস এড়ানো সম্ভব।
অভিজ্ঞ ট্রেডাররা সবসময় একটা কথা বলে—মার্কেটকে প্রেডিক্ট করার চেষ্টা না করে, মার্কেট যা করছে সেটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই আসল স্কিল। এই চিন্তা নিয়ে ট্রেড করলে বাই না সেল—এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।