[IMG]http://forex-bangla.com/customavatars/1429943362.jpg[/IMG]
মার্কিন নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে ব্রিটিশ বাজারে বাড়ছে চীনে তৈরি সস্তা পণ্যের প্রবাহ। এটি যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তাই চীন এখন বিকল্প বাজার খুঁজছে। যুক্তরাজ্য সে বিকল্প বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। ফলে গাড়ি, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ও সাউন্ড ইকুইপমেন্টসহ বিভিন্ন চীনা পণ্য যুক্তরাজ্যে তুলনামূলক কম দামে প্রবেশ করতে পারে।
চীন সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২৯ শতাংশ কমলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বেড়েছে ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে বেড়েছে ৯ শতাংশ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের উপপরিচালক স্টিফেন মিলার্ড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শুল্কের কারণে অন্য বাজারে পণ্য সরাচ্ছে চীন এবং যুক্তরাজ্য তার অন্যতম গন্তব্য। এতে চীনা পণ্যের দাম কমতে পারে, যা যুক্তরাজ্যের আমদানি মূল্যসূচকে প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতির হার কমাতে সহায়ক হবে।’

ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ প্রবণতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। বিওইর মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য ক্যাথরিন মান সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়ার ফলে চীনা পণ্য যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে যাচ্ছে, যা আমদানি মূল্য কিছুটা কমাচ্ছে। এ বাণিজ্যিক স্থানান্তরের প্রভাব এখনো সীমিত হলেও তা আলাদাভাবে চোখে পড়ার মতো।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ। বিওইর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মূল্যস্ফীতি হার সরকারের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।

সম্প্রতি দেশটির সরকারের ঘোষিত শরৎকালীন বাজেটে জ্বালানি বিল ও শুল্কে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি আরো কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে সুদহার কমিয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ করেছে বিওই। আর্থিক বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাড়তে থাকা বেকারত্বের কারণে ২০২৬ সালে আরেক দফা সুদহার কমানো হতে পারে।

বর্তমানে জার্মানির পর চীন থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক যুক্তরাজ্য। গত জুন পর্যন্ত এক বছরে চীন থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি পাউন্ডের পণ্য আমদানি হয়েছে দেশটিতে।

অবশ্য ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের শিল্পকারখানাগুলো সস্তা চীনা পণ্যে ক্ষতির আশঙ্কা করছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এটি স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।