রেলপথে ভ্রমণ অনেক পর্যটকের কাছেই দারুণ আকর্ষণীয়। ধীরে ধীরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এক শহর থেকে আরেক শহরে ছুটে চলাকে অনেকেই উপভোগ করেন। তাদের সেই যাত্রাকে আরো রোমাঞ্চকর করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেল ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। এতে থাকে বিলাসবহুল ভ্রমণ উপভোগের সব উপকরণ। অনেকটা রাজকীয় আবেশেই যাত্রীরা এ ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। যদিও এর জন্য গুনতে হয় বেশ বড় অংকের অর্থ। আজ বলব তেমনই কয়েকটি রেল ভ্রমণের কথা।
Name: news_286935_1.jpg Views: 16 Size: 67.2 KB
ভারতের মহারাজা এক্সপ্রেস:
বিশ্বের বিলাসবহুল রেল ভ্রমণগুলোর কথা বলতে গেলে শুরুতেই নিতে হবে ভারতের মহারাজা এক্সপ্রেস লাক্সারি ট্রেনের নাম। এ ট্রেনের ভেতরে পা দিতেই আপনি অনুভব করবেন রাজকীয় সব ব্যাপার। প্রাচীনকালের মহারাজাদের বাড়ির অন্দরমহলের আদলে সাজানো এ ট্রেনের কর্তৃপক্ষ আপনাকে জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ভেনিসের সিম্পলন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস:
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেল ভ্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয় ভেনিসের এ পরিষেবা। বলা হয়, সবচেয়ে সুন্দরভাবে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য এ ভ্রমণের বিকল্প নেই। মূলত ছয় রাত পাঁচদিনের একটি ট্যুর প্যাকেজ পরিচালিত হয় প্যারিস থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও ইস্তাম্বুল থেকে ভেনিস পথে। এ ট্রেনের রয়েছে ১৭টি বিলাসবহুল বগি, কেবিন ও ডাবল কেবিন সংবলিত বগি।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল স্কটসম্যান:
ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেস হোটেল কর্তৃপক্ষ এ রেল ভ্রমণ পরিচালনা করে। ব্রিটেনজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এদের রয়েছে আটদিন ও সাত রাতের প্যাকেজ। তবে বিলাসবহুল এ ট্রেনের আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। একবারে কেবল ৩৬ জন যাত্রী এ ভ্রমণের অংশীদার হতে পারেন। এজন্য আগে থেকে বুকিং দিতে হয়, টিকিট কাটতে হয়। এ ট্রেনের ১৪টি টুইন কেবিন রয়েছে। প্রতিটি কেবিনে রয়েছে বিছানাসহ বসবাসের যাবতীয় সুবিধা।

দক্ষিণ আফ্রিকার রোভোস রেল প্রাইড অব আফ্রিকা: কেপ টাউন থেকে কায়রো পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায় এ ট্রেনে। প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৭২ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা করে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি রেল ভ্রমণগুলোর মধ্যে এটিও একটি। এখানে রয়েছে রাজকীয় রয়্যাল স্যুট, ডিলাক্স স্যুট ও প্রিমিয়াম স্যুট। মানভেদে এগুলোর দামে তারতম্য হয়।

ভারতের প্যালেস অন হুইলস: ভারতের আরেকটি বিলাসবহুল ট্রেনের কথা না বললেই নয়। আর সেটি হলো প্যালেস অন হুইলস। নামের মতোই রাজকীয় এর সেবা। ভেতরে প্রবেশের পর মনে হবে যেন কোনো ঐহিত্যবাহী শিল্প প্রদর্শনীতে ঢুকে পড়েছেন। এ ট্রেনে যে খাবার পরিবেশন করা হয় সেগুলোও দারুণ সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী। যেমনটি তৈরি হতো আগের যুগের রাজা-মহারাজাদের জন্য।


রাশিয়ার গোল্ডেন ঈগল ট্রান্স সাইবেরিয়ান এক্সপ্রেস: ২০০৭ সালে এ ট্রেনের যাত্রা। গোল্ড, সিলভার ও ইমপেরিয়াল—এ তিন শ্রেণীতে পর্যটকরা এতে ভ্রমণ করতে পারেন। প্রতিটি কক্ষ প্রাচীন ঐতিহ্যের মিশেলে সাজানো। মস্কো থেকে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছতে ট্রেনটির ১৫ দিন ১৪ রাত সময় লাগে। এটিও আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এশিয়ার ইস্টার্ন অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেস: সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও লাওস পথে চলাচল করে এ ট্রেন। এ ট্রেনের বিশেষত্ব হলো, এর বিরাট বিরাট কাচের জানালা, যা দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ভ্রমণ করতে পারেন পর্যটকরা। পর্যটকদের জন্য এখানে রয়েছে দুটি আলাদা রেস্তোরাঁ। যেগুলো চমত্কার স্বাদের সব খাবার পরিবেশন করে।


ইউরোপের দানিয়ুব এক্সপ্রেস:


বিশ্বের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বিলাসবহুল রেল বলা হয় এটিকে। নামি-দামি যেকোনো পাঁচ তারকা হোটেল মানের সেবা এখানে পাবেন ভ্রমণকারীরা। পর্যটকদের নিয়ে ইউরোপের বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী স্থানে ঘুরতে যায় এ ট্রেন। এতে ঘুমানোর ব্যবস্থাও বেশ রাজকীয়।

হটাইমস ট্রাভেল অবলম্বনে