চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে গাড়ি বিক্রিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে টয়োটা। জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বী ফক্সওয়াগনকে ছাড়িয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো শীর্ষে রয়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এ সময়ে বিশ্বজুড়ে চিপসহ যন্ত্রাংশ ঘাটতি এবং চীনে লকডাউনসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের গাড়ি বিক্রিতে পতন হয়েছে। খবর কিয়োদো নিউজ। জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জানুয়ারি-জুন সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫১ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে টয়োটা মোটর গ্রুপের ছোট যানবাহন প্রস্তুতকারক দাইহাতসু ও ট্রাক প্রস্তুতকারক হিনো মোটরসের বিক্রি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে টয়োটার গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংস্থাটির গাড়ি বিক্রিতে পতন হয়েছে। গাড়ি বিক্রিতে পতন মূলত উৎপাদন কমার কারণে হয়েছে। এ সময়ে সংস্থাটির গাড়ি উৎপাদন ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫১ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদনও দুই বছরের মধ্যে প্রথম সংকুচিত হয়েছে। যদিও টয়োটা বিশ্বজুড়ে চিপ ঘাটতির প্রভাবকে সীমিত করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে অন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চিপ ঘাটতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে টয়োটার বিশ্বব্যাপী গাড়ি বিক্রি প্রতিদ্বন্দ্বী ফক্সওয়াগনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ সময়ে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ২২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গাড়ি বিক্রেতা হিসেবে রয়ে গিয়েছে ফক্সওয়াগন। এমন ফলাফলের পর টয়োটার এক কর্মকর্তা বলেন, বিক্রির সংখ্যা কখনই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল না। আমরা গাড়ির নিরাপত্তা ও মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা আরো সুবিধা ও আরামদায়ক গাড়ি তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
তবে যন্ত্রাংশে ঘাটতির কারণে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ বিক্রি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এ সময়ে জাপানে ৯ লাখ ১৭৩ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে টয়োটা। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১ শতাংশ কম। পাশাপাশি সংস্থাটির দেশীয় উৎপাদনও ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি জাপানে উৎপাদিত অনেক গাড়িতে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ অন্তর্ভুক্ত করে, যা সেমিকন্ডাক্টরের ওপর নির্ভর করে। এজন্য সরবরাহ না পাওয়ায় দেশটিতে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কমে গিয়েছে।
তবে জাপানের বাইরে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে সংস্থাটির বৈদেশিক উৎপাদন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। যদিও বৈদেশিক বিক্রি ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪১ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। মূলত চীনের উৎপাদন বিস্তৃত করায় জাপানের বাইরে সংস্থাটির উৎপাদন বেড়েছে। অন্য জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বছরের প্রথমার্ধে হোন্ডার বিক্রি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১৯ লাখ ইউনিটে নেমেছে। নিশান মোটরের বৈশ্বিক বিক্রি ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৬ লাখ ৭০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সুজুকি মোটরের গাড়ি বিক্রি ২ শতাংশ বেড়ে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।