২০১৪ সালের পর গত বছর মহাকাশ অর্থনীতি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। সম্প্রতি স্পেস ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশ অর্থনীতি ৪৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। সিএনবিসির খবর অনুসারে, ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অলাভজনক সংগঠন স্পেস ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্পেস ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর রকেট, স্যাটেলাইটসহ অন্যান্য মহাকাশ অর্থনীতির উপকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ব্যয় ২০২০ সালের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি শ্লথগতিতে হয়। স্পেস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টম জেলিবর বলেন, এ বছর মহাকাশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো এ রকম রেকর্ড হারে হবে না। কভিডের কারণে বড় কোনো ধরনের পরিবর্তন হয়নি। টম জেলিবর জানান, এ বছর এমঅ্যান্ডএ ও বেসরকারি বিনিয়োগসহ মহাকাশ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে শ্লথগতি অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যয় শক্তিশালী রয়েছে বলে জোর দেন তিনি। গত বছর বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের প্রবৃদ্ধি ৩৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছে। ব্রডব্যান্ড ও জিপিএসসহ মহাকাশভিত্তিক পণ্য ও পরিষেবা খাত থেকে আয়ও অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, সরকারি ব্যয় বাড়ছে। বর্তমানে ৯০টি দেশ মহাকাশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মহাকাশ খাতে ব্যয়ের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট মহাশূন্যের বাজেট ছিল ৬ হাজার কোটি ডলার। এর পরই চীনের অবস্থান। মহাকাশ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় চীনের প্রায় চার গুণ। এছাড়া ভারত ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ গত বছর মহাকাশ খাতে ব্যয় ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়িয়েছে। তবে ওই দেশগুলোর বাজেট বছরপ্রতি ২০০ কোটি ডলারেরও কম রয়েছে।
টম জেলিবর জানান, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে ৭৫টি রকেট উেক্ষপণ করা হয়, যা রেকর্ডসংখ্যক। এর আগে ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চাঁদে পৌঁছনোর প্রতিযোগিতার সময় এত বেশি রকেট উেক্ষপণ করা হয়। এটি বিস্ময়কর ঘটনা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক হাজারেরও বেশি উিক্ষপ্ত মহাকাশযানের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো। এ তালিকায় নাম রয়েছে মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্কেরও। স্পেসএক্স ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন সংস্থা। স্পেসএক্স পরিচালিত কয়েকশ স্টারলিংক ইন্টারনেট স্যাটেলাইট এ বছর উিক্ষপ্ত হয়।
সব মিলিয়ে মহাকাশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কভিড মহামারীতেও থেমে ছিল না এ খাতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর অর্থায়ন।