যুক্তরাষ্ট্রে উড়ন্ত গাড়ি ‘দ্য স্যামসন সুইচব্লেডকে’ পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশ (এফএএ)। গাড়িটির নির্মাতা স্যামসন স্কাই এর দাম নির্ধারণ করেছে এক লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড, যা ডলারে এক লাখ ৭০ হাজার প্রায়। বাংলাদেশি টাকায় যার দাম প্রায় পৌনে দুই কোটি।
জানা গেছে, গাড়িটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে ১৪ বছর সময় লেগেছে। পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনার আগে সুইচব্লেডের ডানাগুলো খুলে ফেলে উচ্চগতির ট্যাক্সি হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্যামসন স্কাই জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ২১ হাজার মানুষ গাড়িটির অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেছেন। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও ৫২টি দেশের মানুষ রয়েছে।
তিন চাকার উড়ন্ত গাড়িটি চাইলে রাস্তায়ও চালানো যাবে। এ ছাড়া রাখা যাবে বাড়ির গ্যারেজেই। উড়ানোর জন্য কাছাকাছি বিমানবন্দরে নিয়ে গেলে তিন মিনিটের মধ্যে গাড়িটির ডানা এবং লেজ প্রসারিত হবে। এরপর চাইলেই কাছের গন্তব্যের বিমানবন্দরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। এটি ঘণ্টায় ৩০৬ কিলোমিটার গতিতে ২১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। অবতরণের পর উড়ন্ত স্পোর্টস গাড়িটিকে চাইলেই আবার ডানা এবং লেজ গুটিয়ে রাস্তায় চালানো যাবে।
স্যামসন স্কাইয়ের প্রধান নির্বাহী এবং সুইচব্লেডের নকশাকারী স্যাম বোসফিল্ড বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করছি গাড়িটি উড্ডয়নে ঘণ্টায় ৮৮ মাইল গতির প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ এই গতিতে পৌঁছলে গাড়িটি মাটি থেকে উঠতে শুরু করবে। পরীক্ষামূলক ড্রাইভে সুইচব্লেড ঘণ্টায় ৯৮ মাইল গতিতে চলেছে। যার মাধ্যমে প্রমাণ হয় সুইচব্লেড খুব ভালোভাবে উড়তে সক্ষম। ’
কম্পানিটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে গাড়িটির গ্রহণকারীদের মধ্যে নাসার ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, উদ্যোক্তা এবং আরো অনেক পেশার মানুষ রয়েছেন। এফএএর অনুমোদনের পর গত কয়েক সপ্তাহে আরো ৩৬০ জন অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে যাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই পাইলট নয়। স্যাম আরো যোগ করেছেন, ‘শিল্পীরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন এবং সেই ভবিষ্যৎ উড়ন্ত গাড়িতে ভরা। আপনি যদি সেই স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে সুইচব্লেড আপনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ’