নিশানের বহুল জনপ্রিয় স্পোর্টস কার মডেল জিটি-আর। জাপানি কোম্পানিটির প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত স্পোর্টস কারটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল কয়েক দিন আগে। ফলে ১৮ বছর পর প্রথমবার কোম্পানির লাইনআপ থেকে জিটি-আর ছিটকে পড়ল। গত মঙ্গলবার মিডনাইট পার্পল রঙের সর্বশেষ গাড়িটি তোচিগি কারখানা থেকে ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা এক জাপানি গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শব্দ, সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সমস্যা পড়ছিল নিশান। পাশাপাশি এ মডেলের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ছিল নতুন এক চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন বন্ধ প্রসঙ্গে নিশানের প্রেসিডেন্ট ইভান এসপিনোসা বলেন, ‘জিটি-আর নিয়ে আমাদের হাতে চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে আরো পরিমার্জিত রূপ নিয়ে ফিরে আসব।’ জিটি-আর নামের উৎপত্তি ১৯৬৯ সালে। ওই বছর নিশানের স্কাইলাইন মডেলের রেসিং সংস্করণ চালু হয়। তখন স্কাইলাইন ছিল সেডান বা কুপে মডেল, আর স্কাইলাইন জিটি-আর ছিল রেসিং কার মডেল। এর প্রায় চার দশক পর ২০০৭ সালে স্কাইলাইন বাদ দিয়ে সরাসরি ‘নিশান জিটি-আর’ নামে একটি মডেল বাজারে আসে। পারফরম্যান্স ও ডিজাইনের সূক্ষ্মতার কারণে মডেলটি জাপান ও আন্তর্জাতিক বাজারে খ্যাতি অর্জন করে। বিশেষ করে জাপানে অনুষ্ঠিত সুপার জিটি রেসিং সিরিজে জয়ের পর মোটরস্পোর্টস জগতে সাফল্য পায় এটি। গত শতকের শেষ দিকে আর্থিক সংকটের সময় নিশানের পুনর্গঠন পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জিটি-আরের নাম। তখন স্পোর্টস কারের পরিমার্জিত সংস্করণের সিদ্ধান্ত নেন কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান কার্লোস ঘোসন, যা ছিল মূল পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে নিশানের ব্র্যান্ড ইমেজ ফের শক্তিশালী হয় এবং বিশ্ববাজারে কোম্পানিটি নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। জিটি-আর মডেলের গাড়িগুলো তৈরি হতো জাপানের তোচিগি কারখানায়। প্রতিটি ইঞ্জিন নিশানের ইয়োকোহামা কারখানায় নয়জন দক্ষ কারিগর নিজ হাতে জোড়া লাগাতেন। ১৮ বছরে প্রায় ৪৮ হাজার ইউনিট নিশান জিটি-আর তৈরি হয়েছে।