দীর্ঘদিন হতে আর্কিওলজি ভাগ্যের খেলা ও ক্লান্তিকর অন্ধ খননের বিষয় ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে—এখন আর ভাগ্যের উপর নির্ভর করে খনন করা হয়না, বরং তত্ত্বের ভিত্তি করে যাচাই-বাছাই করে এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সাইবার‑আর্কিওলজি মূলত স্যাটেলাইট স্ক্যানিং, লেজার প্রোবিং এবং নিউরাল নেটওয়ার্ককে এক সুতোয় গেঁথেছে, ফলে পৃথিবীর অতল গহ্বর এক উন্মুক্ত বইয়ে পরিণত হয়েছে। এখন এআই টেরাবাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং অতীতের "মজুদ" অনুসন্ধান করে।

লাইডার — “ডিজিটালভাবে জঙ্গল পরিষ্কার”

লেজার স্ক্যানিং বা লাইডার নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোন বা এয়ারক্রাফট প্রতি সেকেন্ডে মিলিয়ন মিলিয়ন লেজার পালস ছুঁড়ে থাকে। কিছু লেজার পালস ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ভেদ করে মাটিতে প্রতিফলিত হয়ে আসে। এটি কীভাবে কাজ করে? কম্পিউটার গাছপালা ও লতাপাতা সরিয়ে ফেলে এবং বিশদ থ্রিডি মানচিত্র তৈরি করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুয়াতেমালার ঘন জঙ্গলের নিচে সন্ধান মিলেছে দশ হাজারেরও বেশি বাড়ি, পিরামিড ও প্রতিরক্ষামূলক কূপসহ এমনসব স্থান যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

এআই গোয়েন্দা — জটিল নকশার রহস্যভেদ

মানব চোখে প্রায়শই পৃথিবীর অদ্ভুত অনিয়মগুলো ধরে পড়ে না, কিন্তু নিউরাল নেটওয়ার্ক এই ধরনের জটিল নকশার রহস্য ভেদ করতে রীতিমত প্রশিক্ষিত। সোজা রেখা, নিখুঁত বৃত্ত ও সমকোণ প্রকৃতিতে বিরল—এগুলো সাধারণত মানুষের ব্যবহৃত সংকেত। ফলাফল কী? এআই সারাবিশ্বের স্যাটেলাইট ইমেজ ফিল্টার করে সন্দেহজনক অবজেক্টগুলোর ব্যাপারে ফ্ল্যাগ তোলে। এর মাধ্যমেই স্টেপ্পেস অঞ্চলের শত শত যাযাবর শিবির ও ব্রিটেনের ক্ষেতের নিচে লুকানো ভিলা‑ফাউন্ডেশন আবিষ্কৃত হয়েছে—এমন নিদর্শন আগে দেখা যেত না বললেই চলে।

মহাকাশ থেকে হাইপারস্পেকট্রাল ভিশন

পৃথিবীপৃষ্ঠের নিচের ধ্বংসাবশেষ মাটির রসায়ন পরিবর্তন করে এবং উপরে থাকা উদ্ভিদ কীভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখে তাতেও প্রভাব ফেলে। আধুনিক স্যাটেলাইট মানুষের চোখে অদৃশ্য এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্ পরিবর্তনগুলো হাইপারস্পেকট্রাল ব্যান্ডে সনাক্ত রা যায়। এর প্রভাব কী? প্রাচীন প্রাচীরের ওপরের ফসল একটু ভিন্নভাবে পাকে বা আলাদা রঙয়ের হয়ে থাকে। কক্ষপথ থেকে এটি এমনভাবে দেখা যায় যেন আধুনিক ক্ষেতের মাঝেই একটা পরিষ্কার “ভৌতিক” ব্লুপ্রিন্ট হিসেবে একটি ভবনের আকার ভেসে উঠছে।

সোয়ার্ম রিকনাইসেন্স ড্রোন

২০২৬ সালে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন সোয়ার্ম ব্যবহার করে দুর্গম গুহা ও ঘন বনসমূহের খোঁজ করা হয়। এগুলো এমন সরু ফাটলে ঢুকতে পারে যেখানে মানুষের কখনই ঢোকা সম্ভব নয় এবং আল্ট্রাসোনিক ও নাইট‑ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ স্থানের উচ্চ-নির্ভুল মানচিত্র তৈরি করে। এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে? মিসরের সমাধিসমূহে নতুন চেম্বার এবং মৃত সাগরের আশপাশের কালো পাহাড়ে লুকানো আশ্রয়স্থল এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই আবিষ্কৃত হয়েছে, যেখানে প্রত্নবস্তুরা প্রায় নিখুঁত অবস্থায় সংরক্ষিত আছে।