ডজি (Doji) ক্যান্ডলস্টিক হলো ফরেক্স এবং স্টক মার্কেটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাইস অ্যাকশন সিগন্যাল। এটি সাধারণত তখন তৈরি হয় যখন মার্কেটে ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুই পক্ষের শক্তি প্রায় সমান হয়ে যায়। অর্থাৎ কেউই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না, ফলে প্রাইস ওপেন এবং ক্লোজ প্রায় একই জায়গায় শেষ হয়। এই অবস্থাতেই ডজি ক্যান্ডেল তৈরি হয়।
ডজি কেন তৈরি হয় সেটা বুঝতে হলে আগে মার্কেটের আচরণ বুঝতে হবে। প্রতিটি ক্যান্ডেল তৈরি হওয়ার সময় মার্কেটে বাইয়ার এবং সেলারদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা চলে। যদি বাইয়াররা শক্তিশালী হয়, তাহলে ক্যান্ডেল সবুজ বা বুলিশ হয় এবং প্রাইস উপরে যায়। আর যদি সেলাররা শক্তিশালী হয়, তাহলে ক্যান্ডেল লাল বা বেয়ারিশ হয় এবং প্রাইস নিচে নামে। কিন্তু যখন দুই পক্ষের শক্তি প্রায় সমান হয়ে যায়, তখন কোনো পক্ষই প্রাইসকে নির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যেতে পারে না। তখনই ডজি তৈরি হয়।
ডজির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর ছোট বডি এবং লম্বা উইক বা শ্যাডো। অনেক সময় ওপেন এবং ক্লোজ প্রাইস একেবারে একই বা প্রায় কাছাকাছি থাকে। এর মানে হলো দিনের শুরুতে যে দিকেই মার্কেট যেতে চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দিকেই শক্তভাবে যেতে পারেনি। এই কারণে ডজি মূলত মার্কেটে অনিশ্চয়তা বা সিদ্ধান্তহীনতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
ডজি তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ট্রেন্ডের দুর্বলতা। যখন কোনো শক্তিশালী আপট্রেন্ড বা ডাউনট্রেন্ড চলতে থাকে, তখন হঠাৎ করে ডজি দেখা গেলে বোঝা যায় সেই ট্রেন্ডের গতি কমে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ধরলে, যদি মার্কেট অনেকদিন ধরে উপরে যাচ্ছে এবং হঠাৎ ডজি তৈরি হয়, তাহলে বোঝা যায় বাইয়ারদের শক্তি কমে যাচ্ছে এবং সেলাররা ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে। একইভাবে ডাউনট্রেন্ডে ডজি তৈরি হলে রিভার্সালের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ডজি তৈরির পেছনে বড় কারণ হলো মার্কেটে নতুন তথ্য বা নিউজের প্রভাব। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিউজ আসার আগে বা পরে মার্কেটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ট্রেডাররা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কোন দিকে যাবে, ফলে প্রাইস এক জায়গায় ঘোরাফেরা করে এবং ডজি তৈরি হয়। বিশেষ করে বড় নিউজ যেমন সুদের হার, ইনফ্লেশন রিপোর্ট বা জিডিপি ডাটা প্রকাশের সময় এই ধরনের ক্যান্ডেল বেশি দেখা যায়।
আরেকটি কারণ হলো বড় ইনস্টিটিউশনাল ট্রেডারদের অপেক্ষা করা। ফরেক্স মার্কেটে বড় ব্যাংক এবং ফান্ডগুলো অনেক সময় একসাথে এন্ট্রি নেয় না। তারা মার্কেটের কনফার্মেশন দেখে ধীরে ধীরে পজিশন নেয়। এই সময় ছোট ট্রেডাররা বিভিন্ন দিকে ট্রেড করলেও বড় প্লেয়াররা এখনো সিদ্ধান্ত নেয় না, ফলে মার্কেটে ব্যালেন্স তৈরি হয় এবং ডজি গঠন হয়।
ডজি সবসময় রিভার্সাল সিগন্যাল না হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এটি ট্রেডারকে বলে দেয় যে মার্কেটে এখন অনিশ্চয়তা চলছে, তাই অন্ধভাবে ট্রেড না নিয়ে অপেক্ষা করা উচিত। অনেক সময় ডজির পর বড় মুভমেন্ট শুরু হয়, কিন্তু কোন দিকে যাবে সেটা নিশ্চিত হতে অন্য কনফার্মেশন দরকার হয়।
সবশেষে বলা যায়, ডজি তৈরি হয় যখন মার্কেটে ক্রেতা ও বিক্রেতার শক্তি সমান হয়ে যায় এবং কেউই স্পষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। এটি ট্রেন্ডের দুর্বলতা, নিউজ ইভেন্ট বা ইনস্টিটিউশনাল অংশগ্রহণের অপেক্ষার কারণে হতে পারে। তাই ডজি দেখা গেলে তাড়াহুড়া করে ট্রেড না নিয়ে আগে মার্কেটের কনটেক্সট বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই ক্যান্ডেলের অর্থ ভালোভাবে বুঝতে পারে, তারা ট্রেডিংয়ে অনেক বেশি সতর্ক এবং স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।